এসএসসি-৮৬ ব্যাচের সঙ্গীত সন্ধ্যা ও আলোচনা সভা

বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ়, প্রাণবন্ত ও সম্প্রসারিত করার প্রত্যয় নিয়ে এসএসসি-৮৬ বাংলাদেশের উত্তর জোনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সঙ্গীত সন্ধ্যা।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর ৭ নম্বর সেক্টরের পার্টি সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিনের বন্ধুদের মিলন, স্মৃতিচারণ, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সাংস্কৃতিক আবহে এক ভিন্নমাত্রার পরিবেশ তৈরি হয়।

সন্ধ্যার শুরুতেই আয়োজকদের পক্ষ থেকে অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানানো হয়। পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসএসসি-৮৬-এর বন্ধুত্বকে সময়ের সীমানা পেরিয়ে আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেন।

তারা বলেন, বিদ্যালয়জীবনের বন্ধুত্ব মানুষের জীবনের অন্যতম নির্মল ও স্মরণীয় অধ্যায়। সময়ের প্রবাহে কর্মব্যস্ততা, পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা জীবনের নানা বাস্তবতায় দূরত্ব তৈরি হলেও আন্তরিকতার বন্ধন অটুট থাকলে সেই সম্পর্ক আবারও প্রাণ ফিরে পায়।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাহিদ আক্তার, কেন্দ্রীয় সংগঠক ও সিনিয়র সাংবাদিক ফসিহ উদ্দীন মাহতাব প্রমুখ। বক্তারা এসএসসি-৮৬-এর বন্ধুদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ আরও বাড়ানো, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্মিলিতভাবে অংশ নেওয়া এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বন্ধুত্বের ইতিবাচক মূল্যবোধ তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তারা আরও বলেন, একটি ব্যাচের বন্ধুত্ব শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সামাজিক সম্প্রীতি, মানবিকতা ও পারস্পরিক সহযোগিতারও একটি শক্তিশালী মাধ্যম। তাই নিয়মিত মিলনমেলা, সাংস্কৃতিক আয়োজন, সামাজিক উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে এই বন্ধনকে আরও অর্থবহ করে তোলা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি আজাদ পাটোয়ারী, সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম খান, উত্তরা জোনের সভাপতি ইকবাল ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক আশরাফ সিদ্দিকী এবং রাজধানীর বিভিন্ন জোনের নেতৃবৃন্দ। তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।

আলোচনা পর্ব শেষে শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত সঙ্গীত সন্ধ্যা। বন্ধুদের কেউ গান পরিবেশন করেন, কেউ স্মৃতিচারণে ফিরিয়ে আনেন বিদ্যালয়জীবনের নানা আনন্দঘন মুহূর্ত। পরিচিত মুখগুলোর হাসি, পুরোনো দিনের গল্প আর সুরের মূর্ছনায় যেন ফিরে আসে কৈশোরের সেই দুরন্ত দিনগুলো। বয়সের ব্যবধান কিংবা জীবনের ব্যস্ততা সেখানে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি; বরং পুরোনো বন্ধুত্বের উষ্ণতায় সবাই হয়ে উঠেছিলেন একই সময়ের সহপাঠী।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের আয়োজনের মূল লক্ষ্য শুধু আনন্দ-উৎসব নয়, বরং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে নতুন প্রজন্মের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত করে আরও বিস্তৃত করা। ভবিষ্যতেও এসএসসি-৮৬ বাংলাদেশের বিভিন্ন জোনে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখবে।

স্মৃতি, সুর আর বন্ধুত্বের আবেশে শেষ হয় সন্ধ্যার আয়োজন। তবে অনুষ্ঠান শেষ হলেও অংশগ্রহণকারীদের মনে থেকে যায় পুরোনো দিনের সেই নির্মল বন্ধুত্বের অনুরণন-যে বন্ধুত্ব সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয় না, বরং স্মৃতির আলোয় আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।