আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দিনের সফরে ভারত যেতে পারেন। তার এ সফর ঘিরে উভয় দেশের মধ্যে চলছে নানা প্রস্তুতি। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে নয়াদিল্লি ও ঢাকার সূত্রের বরাতে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আশা করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি নয়াদিল্লি সফর করবেন। সফরটি সম্পন্ন হলে এটি হবে তার প্রথম ভারত সফর, যা হতে পারে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
এনডিটিভি জানিয়েছে, সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে উভয় প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য, সংযোগ (কানেকটিভিটি), জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা করবেন।
অবশ্য এ ব্যাপারে গতকাল শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরে আসার আমন্ত্রণ আগেই জানানো হয়েছে। পরে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ নিয়ে কোনো অগ্রগতি থাকলে তা জানানো হবে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দুই দিনের এই সফরটিকে একটি দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আলোচনা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত করা হচ্ছে সফরের সময়সূচির বিস্তারিত।
সফরটি এমন একসময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন মনে হচ্ছে উভয় পক্ষই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে আন্তরিকভাবে আগ্রহী। এ সফরের মাধ্যমেই সব অমীমাংসিত বিরোধের সমাধান হবে এমনটি আশা করা হচ্ছে না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে নরেন্দ্র মোদি ও তারেক রহমানের মধ্যে সরাসরি বৈঠক এ মতপার্থক্যগুলো দূর করার জন্য একটি রাজনৈতিক পথ তৈরি করতে পারে। এ সফর তারেক রহমানকে তার সরকারের অবস্থান সরাসরি ভারতীয় নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরতে সাহায্য করবে।
অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদির জন্যও এটি হবে নতুন বাংলাদেশ সরকারের কাছে নয়াদিল্লির প্রত্যাশাগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরার একটি সুযোগ। এনডিটিভির প্রতিবেদন বলছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী সব ঠিক থাকলে, আগামী সপ্তাহে তারেক রহমানের দিল্লি সফর হবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার নতুন রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রথম বড় পরীক্ষা।
আগামী সেপ্টেম্বরে রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্যও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে মারাত্মক টানাপড়েন তৈরি হয়। তখন থেকেই শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের অনুরোধসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।