১৫ আগস্ট কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যাতে কোনো ধরনের কর্মসূচি পালন করতে না পারেন সে জন্য রাজধানীসহ সারা দেশে চলছে কঠোর নজরদারি। বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা, জোরদার করা হয়েছে টহল, চেকপোস্টে চলছে তল্লাশি। দলটির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গত কয়েক দিনে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ১৫ আগস্টে সুনির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা হুমকি না থাকলেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ঝটিকা মিছিলসহ বিচ্ছিন্নভাবে কর্মসূচি পালনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তা প্রতিরোধের জন্য সজাগ রয়েছে বিভিন্ন বাহিনী।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যেকোনো অপতৎপরতা দমনে পুলিশ সবসময় সতর্ক থাকে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যাতে সক্রিয় হতে না পারেন, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের সবগুলো ইউনিট এ বিষয়ে কাজ করছে।’
বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যে বলা হয়েছে, ধানম-ি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর গুঁড়িয়ে দেওয়া বাড়িতে আজ যেকোনো সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ব্যানারসহ উপস্থিত হয়ে ঝটিকা মিছিল, পুষ্পস্তবক অর্পণের চেষ্টা করতে পারেন। এ কারণে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি চালাচ্ছে একাধিক বাহিনী।
ডিএমপির ধানম-ি জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. আরিফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ধানম-ি ৩২ নম্বরে কোনো মহল যাতে অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সে জন্য আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি। এমনিতে কোনো শঙ্কা বা ঝুঁকি নেই। তবে পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাত থেকে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশের জলকামান।’
ঢাকার প্রবেশ মুখগুলোতেও বাড়তি নিরাপত্তা দেখা গেছে। রাত থেকে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে সন্দেহভাজনদের। ডিএমপির তিনটি থানার ওসিরা জানান, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যাতে ঢাকায় ঢুকতে না পারেন সেজন্য টহল দল ও চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ এডিসি নিয়াজ মেহেদী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১৫ আগস্ট কেন্দ্র করে রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাজধানীজুড়ে পিকেট ও চেকপোস্ট ডিউটি পরিচালনা করা হচ্ছে। নিিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য ডিএমপির সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সরেজমিনে মাঠে থেকে বিষয়গুলো তদারক করছেন।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করতে পারেন। কোথাও কোথাও রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে যানবাহন চলাচলে বিঘœ ঘটানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোপালগঞ্জ জেলার এসপি মো. মিজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বড় কোনো দিবস উপলক্ষে আমরা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে থাকি। আজ ১৫ আগস্ট উপলক্ষেও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বাড়তি ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। যারা বিশৃঙ্খলা করতে পারেন তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যেসব স্থানে মিছিল কিংবা বিশৃঙ্খলা হতে পারে, সেগুলো চিহ্নিত করে আমরা কাজ করছি।’
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে তাদের সবগুলো ব্যাটালিয়ন নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। কোথাও বিশৃঙ্খলা দেখা গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ১৫ আগস্টে শোক পালনের প্রস্তুতি সভা চলাকালে বৃহস্পতিবার রাতে ভাটারা এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৫৩ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই দিন সন্ধ্যায় শরীয়তপুরের গঙ্গানগর বাজারে স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতার নেতৃত্বে মিছিল ও পথসভা করা হয়েছে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করে। শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলকারীরা পালিয়ে যান। তবে দুজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া, গত বুধবার ভোরে ধানম-িতে ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের মিছিল থেকে ব্যানারসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।