উদ্ধারে নেমে প্রাণ গেল খোকনের

পরিবারের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে পাঁচ মাস আগে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামে আসেন খোকন মিয়া। মাসখানেক পর শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন ‘ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে’। সেখানে তার কাজ ছিল নাটবল্টু খোলা, লোহা-লক্কড় আনা-নেওয়াসহ নানা ধরনের কাজ। জাহাজটি যেখানে কাটা হচ্ছিল, সেখান থেকে তার অবস্থান ছিল কিছুটা দূরে। বিষক্রিয়া শুরু হওয়ার পর সেখানে সহকর্মীদের উদ্ধারে ছুটে যান। এরপর বিষক্রিয়ায় তারও মৃত্যু হয়।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে এসব কথা বলেন খোকন মিয়ার ফুফাতো ভাই রোমান মিয়া। তিনি বিমানবন্দরে আনসার সদস্য হিসেবে কর্মরত। বাড়ি থেকে মুঠোফোনে খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন। পরে মামাতো ভাইয়ের লাশ দেখতে পান।

রোমান মিয়া বলেন, খোকন চার মাস ধরে এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করত। তার বয়স ২৩ বছর। বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও তিন বছরের এক সন্তান আছে। পরিবারের বেহাল বলে সে চট্টগ্রামে এসেছিল পরিবারের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে। তবে সে নিজেই এখন না ফেরার দেশে চলে গেল।

রোমান মিয়া বলেন, পাঁচ মাস আগে বাড়ি থেকে আসার পর সে আর বাড়ি যায়নি। কিছু দিন পর ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন লাশ হয়েই ফিরবে।

খোকন মিয়াকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা আঙ্গর আলী। তিনি নিজেও এ পেশায় জড়িত। আঙ্গর আলী বলেন, আজ আমার কাজ ছিল না। শোরগোল শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখি সবার খুব খারাপ অবস্থা। খোকন মিয়াকে এক জায়গায় এনে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে আমি মেডিকেল নিয়ে আসি। পরে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

কী ঘটেছে দেখতে গিয়ে প্রাণ হারান নিরাপত্তা সহকারী দুর্ঘটনায় নিহত ৯ জনের মধ্যে একজন হলেন আব্দুল আলিম সুজন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা সহকারী (পরিবেশ)। গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি কী হয়েছে দেখতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এরপর একজনকে ওপরে তুলে দেন। একপর্যায়ে নিজেই বেহুঁশ হয়ে যান।

সুজনের ছোট ভাই আব্দুল আউয়াল সুভাষ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার ভাই দুই বছর ধরে এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। বিষক্রিয়ার পর তিনি সেখানে ছুটে যান। একজনকে ওপরে তুলেও দেন। এরপর নিজেই অচেতন হয়ে মারা যান।