বাংলাদেশের ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোতে গত কয়েক বছর থ্রিলার, ক্রাইম ও মিস্ট্রি ঘরানার কনটেন্টের দাপট স্পষ্ট। ২০২৬ সালেও সেই ধারায় বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। প্ল্যাটফর্মগুলো একের পর এক থ্রিলারনির্ভর ওয়েব সিরিজ ও চলচ্চিত্র নিয়ে আসলেও সামগ্রিক কনটেন্টে গল্পের বৈচিত্র্যের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
সম্প্রতি আইস্ক্রিনে মুক্তি পাওয়া ভিকি জাহেদের সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ‘চক্র ২’ কিংবা চরকি অরিজিনালসের শিহাব শাহীন পরিচালিত স্পাই-থ্রিলার ‘ক্যাকটাস’ সব ক্ষেত্রেই থ্রিলার ও অপরাধনির্ভর ঘরানাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি তানিম পারভেজ পরিচালিত ‘সিক্স’ সিরিজের মতো কাজগুলোতেও রহস্য ও অপরাধের ছক ব্যবহার করা হয়েছে। নির্মাতারা বারবার থ্রিলার ও সাইকোলজিক্যাল দ্বন্দ্বকেই দর্শকদের ধরে রাখার অন্যতম প্রধান উপায় হিসেবে বিবেচনা করায় অন্যান্য ভিন্নমাত্রার মৌলিক গল্প তুলনামূলকভাবে আড়ালে পড়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোতে নতুন ও বৈচিত্র্যময় মৌলিক কনটেন্ট নির্মাণের গতিও তুলনামূলকভাবে কম। মৌলিক কাজের ঘাটতি মেটাতে প্ল্যাটফর্মগুলো এখন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া সিনেমার ওপরও অনেকাংশে নির্ভর করছে। রেদওয়ান রনির ‘দম’, মেহেদী হাসান হৃদয়ের ‘রাক্ষস’ কিংবা আবু হায়াত মাহমুদের ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন ঢাকা’। এসব থ্রিলার ও অ্যাকশননির্ভর সিনেমাই মূলত ওটিটির অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে স্থান পাচ্ছে।
তবে এই থ্রিলারের ভিড়ে অমিতাভ রেজা চৌধুরী ও মুশফিকা মাসুদের ‘লাভ সিটার’, তানিম নূর পরিচালিত হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসনির্ভর ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ কিংবা ওয়াহিদ আনামের ‘তাজমহল’-এর মতো কিছু ভিন্ন ঘরানার কাজ দেখা গেলেও, তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম। ২০২৬ সালের ঈদুল আজহার কনটেন্ট তালিকা বিশ্লেষণ করলেও দেখা যায়, নতুন ও বৈচিত্র্যময় মৌলিক কাজের চেয়ে পুরনো ফর্মুলার থ্রিলার এবং প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া সিনেমাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ওটিটি ইন্ডাস্ট্রি সম্প্রসারিত হলেও গল্পের বৈচিত্র্যের জায়গায় এখনো বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। নির্মাতাদের বড় একটি অংশ থ্রিলারের বাইরে গিয়ে গল্পের নতুন পথ তৈরিতে পিছিয়ে রয়েছে। ফলে দর্শকদের জন্য একই ধরনের রহস্য, অপরাধ ও টানটান উত্তেজনার গল্প বারবার ফিরে আসছে, অথচ অপেক্ষাকৃত কম দেখা যাচ্ছে পারিবারিক, সামাজিক, রোমান্টিক, কমেডি কিংবা জীবনঘনিষ্ঠ গল্প।