আরও একবার ইনসাইড-এজড, আর আরও একবার ট্রাভিস হেডকে বোল্ড করে ফেরালেন আগের ইনিংসের পেস ‘রাজা’ হাসান মাহমুদ। পার্থক্য শুধু এটাই আগের ইনিংসে ওভার দ্য উইকেটে আর এবার রাউন্ড দ্য উইকেটে বল করে। তবে ফলাফলও একই এবং অজিদের পরিণামটাও সেই ‘আন-অস্ট্রেলিয়ান’ ক্রিকেটের হতাশাজনক প্রদর্শনী।
হেডকে ফেরানো আগে ইনিংসের দ্বিতীয় ও নিজের প্রথম ওভারে ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ডকেও (০) ফেরান হাসান। এতে প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও এই ডানহাতি পেসারের তোপে দুই ওপেনার হারিয়ে ধুঁকছে স্বাগতিকরা। তৃতীয় দিনের খেলায় চা বিরতিতে যাওয়ার আগে ১৭ ওভার শেষে ২ উইকেটে ৫১ রান তুলেছে অজিরা। এতে এখনো ১৭৭ রানে পিছিয়ে আছে প্যাট কামিন্সের দল।
অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের দীর্ঘদিনের পরিচিত রূপের সঙ্গে বর্তমান চিত্রের যেন কোনো মিলই নেই। ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিনের সকালে ম্যাড়ম্যাড়ে ফিল্ডিং, ক্যাচ মিস আর ক্লান্তির চরম রূপ দেখিয়ে ধারাভাষ্যকার ও সাবেক ক্রিকেটার অ্যালিসা হিলির মুখে তিক্ত স্বীকারোক্তি আদায় করে নিয়েছে অজিরা।
দিনের প্রথম সেশনে বাংলাদেশ ব্যাট করার সময় ফক্স ক্রিকেটের ধারাভাষ্য কক্ষে হতাশা প্রকাশ করে অ্যালিসা হিলি বলেই ফেলেন, ‘এটা খুব, খুব আন-অস্ট্রেলিয়ান, তাই না?)।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা ক্যাচ মিস করতে দেখেছি। আমাদের ১২৮ ওভার (ক্যাচ মিসের সময়) ধরে ফিল্ডিং করতে দেখেছি। এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা অস্ট্রেলিয়া নিজেই ডেকে এনেছে।’ মাঠের এই ছন্নছাড়া পারফরম্যান্সের সুযোগ পুরোদমে কাজে লাগিয়ে ২২৮ রানের বিশাল লিড পায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
প্রথম সেশনে সফরকারীদের দ্রুত অলআউট করতে না পেরে উল্টো খেসারত দিতে হয়েছে অজিদের। ফিল্ডারদের ব্যর্থতায় জীবন পেয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ লড়াকু এক ফিফটি তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ফেরেন ৬৫ রান করে। দীর্ঘ ১২৮ ওভার ফিল্ডিং করার পথে অস্ট্রেলিয়া এই ইনিংসে মোট পাঁচটি ক্যাচ ফেলে রেকর্ড গড়েছে। যার মধ্যে অভিজ্ঞ স্মিথ আউটিফিল্ডে জীবনের অন্যতম সহজ ক্যাচটি ফেলে চরম হতাশার জন্ম দেন। যার রেশ ধরেই এমন আন-অস্ট্রেলিয়ানের মতো তিক্ত তকমা দিয়ে বসেন হিলি। এছাড়া ট্রাভিস হেডও একটি কঠিন সুযোগ হাতছাড়া করেন।
বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৪২৬ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ গড়ে অলআউট হয়, যা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে তাদের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ এবং অজিদের বিপক্ষে তাদের সবচেয়ে বেশি ওভার ব্যাটিং করার রেকর্ড।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশন শেষে):
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮/১০ (স্মিথ ৭১, ওয়েদারল্ড ২৩, হেড ২২, কেরি ১৯, গ্রিন ১৩, ওয়েবস্টার ১২; হাসান ৬/৫৫, তাসকিন ২/৫৫, এবাদত ২/৩৯)।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৪২৬/১০ (১৩৮ ওভার) (মুমিনুল ৪৯, তানজিদ ১০১, শান্ত ৮৪, মুশফিক ৩৬, মিরাজ ৬৫, হাসান ১৪, তাইজুল ১৭, তাসকিন ১৪*; হ্যাজলউড ৬/৮৯, স্টার্ক ২/৭৯)।
অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস*: ৫১/২ (১৭ ওভার) (ওয়েদারল্ড ০, হেড ১৭, লাবুশেন ২১*, স্মিথ ৮; হাসান ২/১৮)