বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিরসন ও স্থানীয় নির্বাচন চায় জামায়াত

বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকটসহ নগর সমস্যার সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার বলে জানান জামায়াত নেতারা। এছাড়া  দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও দল-মত ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে নগর উন্নয়নে কাজ করতে হবে বলে জানান তারা।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভায় বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট, দুর্নীতি, জলাবদ্ধতা, নগর নিরাপত্তা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সুখবর নেই।

তিনি বলেন, করদাতাদের যেন ট্যাক্স দিতে গিয়ে এক টাকাও ঘুষ দিতে না হয়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব জামায়াতের হাতে এলে নগর ব্যবস্থাপনাকে নতুনভাবে সাজানো হবে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

সাইফুল আলম খান মিলন আরও বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা যোগ্যতার অভাব নয়, বরং দুর্নীতি। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, জামায়াতের স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বহু সুবিধাবঞ্চিত মানুষ চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও দল-মত ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে নগর উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

সেলিম উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিনেও রাজধানীর মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি। চাঁদাবাজি, মাদকাসক্তি, পানি ও গ্যাস সংকট, যানজট এবং ফুটপাত দখল নাগরিক জীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। এসব সমস্যার সমাধানে সঠিক পরিকল্পনা ও সৎ নেতৃত্বের বিকল্প নেই।

তিনি জানান, সড়কে আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে যানজট অনেকাংশে কমানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করে আমাদের পক্ষ থেকে একটি বাস্তবসম্মত নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। যা সেলিম উদ্দিন ভবিষ্যতে বাস্তবায়ন করবেন।

জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্ষা শুরুর আগেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কার, নিয়মিত খাল খনন এবং পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে রাজধানীর জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানুষ এই শহরকে নিয়ে গর্ব করতে পারে। সন্তানের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলাই তাদের অঙ্গীকার।

সেলিম উদ্দিন দাবি করেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার আটটি সংসদীয় আসনে গড় ভোটের হিসাবে জামায়াত ক্ষমতাসীন দলের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, রাজধানীকে পরিবর্তন করতে হলে সৎ ও দক্ষ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত এলাকাবাসীও মতামত ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকট বিরাজ করছে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা, মাদক, নিরাপত্তাহীনতা এবং শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ ও সামাজিক সুযোগ-সুবিধার অভাব তাদের নিত্যদিনের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলেছে। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান তারা।

মহানগরী মজলিসে শূরা সদস্য ও শের-ই-বাংলা নগর থানা দক্ষিণের আমীর আবু সাঈদ মন্ডলের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি তারিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মু. রেজাউল করিম, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হেমায়েত হোসেন, মৌলভীবাজার জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক থানা আমির মাওলানা আমিনুল ইসলাম, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ও তেজগাঁও দক্ষিণ থানা আমীর ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদী।

আরও উপস্থিত ছিলেন— অঞ্চল টীম সদস্য ইউছুফ আলী মোল্লা, থানা কর্মপরিষদ সদস্য জামিল বিন হোসাইন, আব্দুজ জাওয়াদ, শামীম মন্ডল, হাসান আল বান্না, ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ, তেজগাঁও কলেজ শিবির  সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম, শিবির নেতা জিয়াউল হক প্রমুখ।