বিষাক্ত ‘হেমলক’ গাছ

নরম কাণ্ডবিশিষ্ট দ্বিবর্ষজীবী গাছ ‘হেমলক’। এটি বিশে^র অন্যতম মারাত্মক এবং প্রাণঘাতী উদ্ভিদ। এই ভেষজ উদ্ভিদটি প্রাচীন গ্রিসে অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো। খ্রিস্টপূর্ব ৩৯৯ সালে এর শিকার ছিলেন দার্শনিক সক্রেটিস। ধর্মদ্রোহিতার জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়ার পর তিনি ‘হেমলক’ গাছের ছাল, পাতা, ফুল, ফল, কাণ্ড এবং শেকড় মিশ্রিত বিষাক্ত রস খেয়ে মরতে বাধ্য হন। এর পাতা, ফুল, ফল, কাণ্ড, শেকড়ে ‘কোনিইন’ নামের বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান রয়েছে। এই রস খাবারের পর একটু হাঁটাহাঁটি করলে, শরীর ক্রমে ঠা-া ও অসাড় হয়ে আসে। কারণ রস খাওয়ার কিছুক্ষণ পর হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তখন মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। হেমলক গাছ দেখতে, বুনো গাজর বা ধনিয়া গাছের মতো হওয়ায় মানুষ বিভ্রান্ত হয়। ছোট ছোট সাদা রঙের ফুল ফোটে গাছে। তখন গাছের শরীর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হয়। হেমলক মূলত ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা এবং পশ্চিম এশিয়ার স্থানীয় উদ্ভিদ। বর্তমানে এটি উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণত রাস্তার পাশ, নর্দমার ধার, নদীর তীর এবং পরিত্যক্ত জমিতে আগাছা হিসেবে জন্মায়। হেমলকের ছয় থেকে আটটি পাতায় যে পরিমাণ বিষ আছে, মানুষের দেহে তা প্রবেশ করলে মৃত্যু অনিবার্য। এই গাছের রস ত্বকে লাগলে, তীব্র চুলকানি হতে পারে। ফলে গাছটি কোথাও দেখলে, খালি হাতে ধরা বা উপড়ানো বিপজ্জনক।