হার্নিয়া একটি সাধারণ, কিন্তু অবহেলিত রোগ। পেটের ভেতরের অঙ্গ অথবা চর্বি পেটের দেয়ালের দুর্বল অংশ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলে তাকে হার্নিয়া বলে। কুঁচকি, নাভি বা পুরনো অপারেশনের জায়গায় হার্নিয়া বেশি দেখা যায়। অনেকেই অপারেশনের ভয়ে হার্নিয়ার চিকিৎসা করাতে চান না। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসায় ল্যাপারোস্কপিক হার্নিয়া সার্জারি একটি নিরাপদ ও কার্যকর বিকল্প। তাই দেরি না করে বিশেষজ্ঞ সার্জনের মাধ্যমে তা করিয়ে ফেলা উচিত।
ছোট ছিদ্র, কম ব্যথা : ল্যাপারোস্কপিক পদ্ধতিতে পেটের দেয়ালে তিন থেকে চারটি ছোট ছিদ্র করে ক্যামেরা ও বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর ব্যথা কম হয়। ক্ষত দ্রুত শুকায়। বাহ্যিক দাগও থাকে খুবই সামান্য।
দ্রুত সুস্থতা : এই পদ্ধতির বড় সুবিধা দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরা যায়। অধিকাংশ রোগী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাঁটাচলা শুরু করতে পারেন। আর কাজে ফিরতে সক্ষম হন ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে।
দুই পাশের হার্নিয়া এক অপারেশনে : অনেক সময় এক পাশে হার্নিয়া ধরা পড়লেও অন্য পাশে দুর্বলতা থাকে। ল্যাপারোস্কপিতে একই অপারেশনে দুই পাশের হার্নিয়া একসঙ্গে ঠিক করা যায়, যা রোগীর সময় ও খরচ দুটিই কমায়।
পুনরায় হওয়া হার্নিয়ায় কার্যকর : যাদের আগে কেটে বা ওপেন পদ্ধতিতে অপারেশন হয়েছে এবং আবার হার্নিয়া হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ল্যাপারোস্কপি অত্যন্ত কার্যকর। কারণ, এতে আগের অপারেশনের দাগ বা জটিল অংশ এড়িয়ে নিরাপদভাবে সার্জারি করা সম্ভব।
জাল বসানোর আধুনিক কৌশল : ল্যাপারোস্কপিক পদ্ধতিতে জাল পেটের দেয়ালের ভেতরের শক্ত জায়গায় বসানো হয়। এতে জাল সরে যাওয়ার ঝুঁকি কম। ভবিষ্যতে হার্নিয়া আবার হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়।
সব হার্নিয়ায় কি ল্যাপারোস্কপি করা যায় : সব রোগীর জন্য এই পদ্ধতি উপযুক্ত নয়। খুব বড় বা জটিল হার্নিয়া, জরুরি অবস্থার হার্নিয়া বা গুরুতর হার্ট ও ফুসফুসের রোগ থাকলে কেটে অপারেশন দেরি করলে বিপদ বাড়ে। অনেকে হার্নিয়া বেল্ট ব্যবহার করে দীর্ঘদিন কাটিয়ে দেন। মনে রাখতে হবে, হার্নিয়া কখনো নিজে নিজে ভালো হয় না। দেরি করলে অন্ত্র আটকে যাওয়া বা রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়ার মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসা : ল্যাপারোস্কপিক হার্নিয়া সার্জারি আধুনিক চিকিৎসার বড় অর্জন। কম ব্যথা, দ্রুত সুস্থতা ও কম জটিলতার কারণে হার্নিয়া চিকিৎসার জনপ্রিয় পদ্ধতি। হার্নিয়ার উপসর্গ দেখা দিলে ভয় না পেয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞ সার্জনের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।