‘দিমাগি নকশালদের’ বিচ্ছিন্ন করার ডাক

সশস্ত্র মাওবাদীদের পাশাপাশি ‘দিমাগি নকশাল’ বা মাওবাদী মনোভাবাপন্নদের বিষয়ে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, যৌথ অভিযানের ফলে সশস্ত্র মাওবাদীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলেও দেশে মাওবাদী ভাবধারায় পুষ্ট বুদ্ধিজীবী ও ব্যক্তিরা এখনো সক্রিয় রয়েছে, যাদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা প্রয়োজন। ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে ঐতিহাসিক লালকেল্লার প্রাচীর থেকে দেওয়া ভাষণে তিনি একথা বলেন।

গতকাল শনিবার সকালে জাতির উদ্দেশে দেওয়া দীর্ঘ ভাষণে মোদি ২০১৪ সালে তার সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মাওবাদ দমনে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং অর্জিত সাফল্যের বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সশস্ত্র মাওবাদ বহুলাংশে দুর্বল হয়ে পড়লেও একটি গোষ্ঠী ‘দিমাগি নকশাল’ হিসেবে সামাজিক ও রাজনৈতিক স্তরে কাজ করছে এবং দেশের তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এরা দেশে অশান্তির বাতাবরণ তৈরি করতে চাচ্ছে এবং সমাজকে পেছনের দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাই তরুণ প্রজন্ম ও তাদের পরিবারকে রক্ষা করতে এই মনোভাবাপন্নদের চিহ্নিত করতে হবে এবং সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে হবে।’

মাওবাদী ভাবধারা চার দশক ধরে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে উন্নয়ন ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে উল্লেখ করে মোদি বলেন, এটি হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর ভবিষ্যৎ ও স্বপ্ন ধ্বংস করেছে।

নিজের প্রথম মেয়াদের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাওবাদ এই দেশকে রক্তাক্ত করেছে। ২০১৪ সালে দেশবাসী যখন আমাদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন, তখন থেকেই আমরা প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যে ভারতকে মাওবাদমুক্ত করব।’

নিরাপত্তাবাহিনীর প্রাণহানির কথা স্মরণ করে মোদি জানান, চার দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই সহিংসতায় মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে সাড়ে তিন হাজারের বেশি পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। মোদি দাবি করেন, ধারাবাহিক অভিযান ও নীতিগত পদক্ষেপের ফলে মাওবাদীরা এখন তাদের ‘শেষ প্রহর গুনছে’।