ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার ভোরে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আটকা পড়েছেন বহু মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান শুরু করার পর হতাহতের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার (বিএনপিবি) প্রধান সুহারিয়ান্তো সংবাদ সম্মেলনে জানান, ভূমিকম্পে ৪৭ জন নিহত, ২ জন গুরুতর আহত এবং ১১ জন সামান্য আহত হওয়ার তথ্য মিলেছে। অন্তত দুই হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেছেন। বিএনপিবি প্রধান জানান, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বেশ কিছু ভবনে এখনো বহু বাসিন্দা আটকে পড়ে আছেন।
শনিবার ভোর ৫টার কিছু আগে ফ্লোরেস দ্বীপে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৫ কিলোমিটার গভীরে।
সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানায়, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন এবং আফটার শকে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধারে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। ঘটনার পরপরই দেশটির একাধিক উপকূলে ১ মিটারের (৩ ফুট) কম উচ্চতার ঢেউ নথিবদ্ধ করা হয়। সুনামির সতর্কতা জারি করা হলেও ভূমিকম্পের ঘণ্টা তিনেক পর তা প্রত্যাহার করা হয়।
ভূমিকম্পে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফ্লোরেস দ্বীপের মাউমেরে বন্দর থেকে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, টার্মিনাল ভবনের বড় বড় কংক্রিটের অংশ ভেঙে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের ওপর পড়ছে। এমনকি জাহাজে ওঠার সিঁড়ি ভেঙে পড়লে কয়েকজন সাগরে ছিটকে পড়েন। কর্তৃপক্ষ সুনামির সতর্কতা জারি করার পর মোটরসাইকেলে করে অনেক মানুষকে উপকূল থেকে ভেতরের দিকে চলে যেতে দেখা যায়। দুর্গম ও পাহাড়ি এই এলাকায় ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণ করতে সময় লাগবে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা বিএনপিবি মানুষকে শান্ত থাকার এবং উপকূলীয় এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। মাউমেরে ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ফ্লোরেস দ্বীপের সিকা রিজেন্সির প্রধান শহর।
মাউমেরে শহরের উদ্ধারকারী সংস্থার প্রধান ফাতুর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ভূমিকম্পের কেন্দ্রের কাছের এলাকা নাগেকেওতে উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো পৌঁছাতে পারেনি। সেখানে বৈদ্যুতিক যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ভূমিধসে সড়ক যোগাযোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে গাড়ি নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। উদ্ধারকারীদের দল ফেরিতে করে সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করছে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, নাগেকেওতে প্রায় দুই হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি বাড়িঘর, গুদাম ও সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ওই রিজেন্সির কিছু এলাকায় যানজট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে।