অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ডারউইনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পরিসংখ্যান ও কিছু অনন্য রেকর্ড:
১
অস্ট্রেলিয়ায় নিজেদের তৃতীয় চেষ্টায় ডারউইনে ৯ উইকেটের প্রথম টেস্ট জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তারা কেবল দুটি টেস্ট খেলেছিল এবং দুটিতেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল। সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাত টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয় (প্রথমটি ২০১৭ সালে মিরপুরে)।
সফরকারী দলগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিততে বাংলাদেশের চেয়ে কম ম্যাচ লেগেছে কেবল ইংল্যান্ডের (২টি)। সাউথ আফ্রিকাও নিজেদের তৃতীয় চেষ্টায় অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম জয় পেয়েছিল।
১০৭৫
ডারউইন টেস্ট খেলতে নামার আগে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের বোলারদের সংগৃহীত মোট টেস্ট উইকেটের ব্যবধান ছিল ১০৭৫। বিজয়ী ও পরাজিত দলের বোলারদের অভিজ্ঞতার (উইকেটের) ব্যবধান এর চেয়ে বেশি ছিল মাত্র দুইবার—২০২৪ সালে পার্থে ভারত যখন অস্ট্রেলিয়াকে হারায় (১২৪৭ উইকেট) এবং একই বছর ব্রিসবেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যখন অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করে (১১১১ উইকেট)।
৩
গত ১৫ বছরে ঘরের মাঠে টসে জিতে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট হারার ঘটনা এটি মাত্র তৃতীয়। বাকি দুটি ছিল ২০২০-২১ মৌসুমে ভারতের বিপক্ষে মেলবোর্ন ও ব্রিসবেনে।
২০২৩ সালের ওভাল অ্যাশেজ টেস্টের পর এবারই প্রথম টসে জিতে টেস্ট হারল অস্ট্রেলিয়া। এর মধ্যবর্তী ৯টি টেস্টেই তারা টসে জিতে ম্যাচগুলো নিজের নামে করেছিল।
১০
অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ১০টি উইকেটের সবগুলোই নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। টেস্ট ইতিহাসের কোনো ইনিংসে সবকটি উইকেট বাংলাদেশি পেসারদের নেওয়ার ঘটনা এটি মাত্র দ্বিতীয়বার।
ডারউইন টেস্টের দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের পেসাররা মোট ১৪টি উইকেট নিয়েছেন, যা টেস্টে তাঁদের সর্বোচ্চ যৌথ উইকেট শিকারের রেকর্ড।
৯/১১১
ডারউইনে ১১১ রান দিয়ে ৯ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ, যা টেস্টে কোনো বাংলাদেশি পেসার হিসেবে দ্বিতীয় সেরা ম্যাচ পরিসংখ্যান। প্রথম ইনিংসে তাঁর ৫৫ রানে ৬ উইকেট প্রাপ্তি বাংলাদেশি পেসারদের টেস্টের এক ইনিংসে তৃতীয় সেরা বোলিং।
অস্ট্রেলিয়ায় নিজের প্রথম টেস্টে সফরকারী কোনো বোলারের ম্যাচ বিচারে হাসান মাহমুদের এটি তৃতীয় সেরা পারফরম্যান্স। ১৯৯০ সালে মেলবোর্নে ওয়াসিম আকরাম এবং ১৯২৪ সালে সিডনিতে মরিস টেট ১১টি করে উইকেট নিয়েছিলেন।
১৯৮
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৯ রানের সংগ্রহটি বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করা যেকোনো দলের সর্বনিম্ন প্রথম ইনিংসের স্কোর। এটি টেস্টে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ারও সর্বনিম্ন সংগ্রহ।
২০১৯
২০১৯ সালে সিডনিতে কুলদীপ যাদবের পর প্রথম সফরকারী স্পিনার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে ৫ উইকেট নিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২০১৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কুলদীপ ও মিরাজই একমাত্র সফরকারী স্পিনার যাঁরা অস্ট্রেলিয়ায় ইনিংসে ৫ উইকেট পেয়েছেন। এছাড়া ২০০০ সালের পর থেকে মিরাজ ছাড়া কেবল গ্রায়েম সোয়ান (২০১০, অ্যাডিলেড) সফরকারী অফস্পিনার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় ৫ উইকেট পেয়েছিলেন।
ডারউইনে মিরাজ ৫ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি হাফসেঞ্চুরিও করেছেন। এটি নিয়ে ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো একই টেস্টে ফিফটি এবং ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখালেন তিনি (যার দুটি এসেছে বিদেশে, যা বাংলাদেশের হয়ে সাকিব আল হাসানের সমান)।
৩৩
ঘরের মাঠে নিজের ৩৩তম টেস্ট ইনিংসে এসে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান ক্যামেরন গ্রিন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেদের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করতে গ্রিনের চেয়ে বেশি ইনিংস লেগেছিল কেবল ইয়ান হিলি (৪১) ও বব সিম্পসনের (৩৬)।
৯
অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হিসেবে টেস্টে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করলেন জশ হ্যাজলউড। আগের আটজনের তিনজনই (নাথান লায়ন, মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্স) ডারউইন টেস্টের একাদশে ছিলেন। ফলে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দলের একই একাদশে ৩০০+ উইকেট শিকারি চারজন বোলার একসাথে খেললেন।
৩
অধিনায়ক হিসেবে দেশের বাইরে নাজমুল হোসেন শান্তর এটি তৃতীয় টেস্ট জয়, যা কোনো বাংলাদেশি অধিনায়কের জন্য সর্বোচ্চ। এর আগের দুটি জয় এসেছিল ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে। শান্ত ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল টেস্ট অধিনায়ক (সর্বমোট ৯টি জয় এবং ঘরের মাঠে ৬টি জয়)।
৬
অধিনায়ক হিসেবে প্যাট কামিন্স ৮টি প্রতিপক্ষের মধ্যে ৬টির বিপক্ষেই টেস্ট হেরেছেন, যা কোনো অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়কের জন্য প্রথম। এর আগে ছয়জন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক সর্বোচ্চ ৫টি দলের বিরুদ্ধে টেস্ট হেরেছিলেন। বর্তমানে কেবল পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অধিনায়ক হিসেবে অপরাজিত আছেন কামিন্স।