নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অতিরিক্ত ও বিষাক্ত মদপানে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লোকমান (২২) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুইজনে। এর আগে শনিবার সকালে মুসা (৩৪) নামে একজনের মৃত্যু হয়।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের ডহমারুয়াদী খেজুরতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের সিদ্দিকের ছেলে মুসা ঢাকায় রিকশা চালাতেন। বৃহস্পতিবার তিনি বাড়িতে আসেন। শুক্রবার রাতে একই গ্রামের আলকাসের ছেলে লোকমান ও মুসা অতিরিক্ত মদপান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। শনিবার সকাল ৮টার দিকে তাদের আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক আফসানা মিম মুসাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে লোকমানের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে লোকমানের মৃত্যু হয়।
নিহত মুসার স্ত্রী শাহানাজ আক্তার জানান, রাতে তার স্বামী বুকে ব্যথা অনুভব করার কথা জানিয়েছিলেন। তবে তিনি মদপানের বিষয়টি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা ঘটনাটি বিষক্রিয়াজনিত বলে জানিয়েছেন।
এদিকে মুসার মৃত্যুর পর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর উদ্যোগ নিলে স্থানীয় কয়েকজন এতে বাধা দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে মুসার লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় জহিরুল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও উঠেছে।
এ ঘটনায় বিষাক্ত মদ সরবরাহের সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন এবং কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনো পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করছে। লোকমানের মরদেহের ময়নাতদন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কে বা কারা বিষাক্ত মদ সরবরাহ করেছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।