ছাত্রদলের নতুন কমিটি: শীর্ষ পদে আলোচনায় কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় যেকোনো সময়ে ঘোষণা হতে যাচ্ছে নতুন কমিটি। ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ‘বিদায়ী’ সাক্ষাৎ করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ পাঁচ নেতা। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘রাকিব-নাছির’ কমিটির বিদায় হয়েছে বলে জানা গেছে।

এবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পদ পদপ্রত্যাশী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা মনে করেন, আন্দোলন-সংগ্রামে অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। কিন্তু সবসময়ই কেন্দ্রীয় শীর্ষপদে নেতা নির্বাচন করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আন্দোলন-সংগ্রামের কথা চিন্তা করে কেন্দ্রীয় শীর্ষ দুই পদের একটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নেওয়া নেতাকর্মীরা দাবি জানিয়েছেন। 

নতুন কমিটির শীর্ষ পদগুলোতে কারা আসছেন তা নিয়ে সংগঠনের ভেতরে-বাইরে এখন ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলছে। সভাপতি পদে আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম নাম বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত। এর আগে তিনি সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজপথের আন্দোলন ও দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে তিনি নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশের সমর্থন পাচ্ছেন।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ গুলোতে যখন ছাত্রদলের ভরাডুবি চলছে ঠিক সেই সময়ই টিম-৬ (বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম বিভাগ) এর টিমলিডার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল প্যানেল থেকে আইয়ুবুর রহমান তৌফিককে সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে জয়লাভ করানোর পাশাপাশি হল সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে ছাত্রদল প্যানেল থেকে জয়লাভ করানোর মাধ্যমে তিনি তার মেধা ও বিচক্ষণতার প্রমাণ দেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক জীবনে জিয়া উদ্দিন বাসিতকে ব্যাপক প্রতিকূলতা ও নির্যাতনের মোকাবিলা করতে হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেন এবং পুলিশের অভিযানের সময় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘকাল পঙ্গুত্ব বরণ করেছিলেন। গত জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানেও রাজধানীর সায়েন্সল্যাব ও রামপুরা এলাকায় ছাত্র-জনতার প্রতিরোধে তার সাহসী ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। রাজপথের ত্যাগী ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত সভাপতি পদের দৌড়ে এগিয়ে আছেন। বিশেষ করে টেলিভিশনের টকশোতে দলের আদর্শ ও রাজনৈতিক বিষয়গুলো যুক্তি দিয়ে উপস্থাপনের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক ইমেজ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

এছাড়াও আলোচনায় আছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহবায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব তাদের হাতে দেওয়া হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলকে নিয়ে সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হিমেল ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন বলে তার অনুসারীদের দাবি। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এর বাইরে তিনি একটি কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার সভাপতি ও নিকলী সদর ইউনিয়নের ছাত্রদলের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে একক দায়িত্ব পালন করেছেন।

দলীয় নেতা-কর্মীদের ভাষ্য, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় হিমেল বিভিন্ন সময় মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন। তাদের দাবি, ২০১৪ সালের ২৮ অক্টোবর রাজপথের কর্মসূচি থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন। পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল বলে তার ঘনিষ্ঠদের দাবি। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা জানান। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা এবং সাংগঠনিক ভূমিকার কারণে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন হলে হিমেলের নামও আলোচনায় থাকতে পারে।

আলোচনায় থাকায় আরেক নেতা শামসুল আরেফিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সখিপুর পৌর ছাত্রদলের ৭ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ছাত্রদলের পক্ষে রাজনৈতিক বক্তব্য ও ন্যারেটিভ তৈরিতে তার দক্ষতা রয়েছে বলে সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের দাবি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের আধিপত্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন, জকসুর কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয় ছিলেন। তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দলের প্রতি আনুগত্য, কর্মনিষ্ঠা ও সাংগঠনিক ভূমিকার বিষয়টি সামনে আসে।

ছাত্রদলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও সংকটকালেও শামসুল আরেফিনের সক্রিয় থাকার কথা জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ নেতা-কর্মীরা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৪ সালের ধারাবাহিক আন্দোলন, ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী সময়েও তিনি দলীয় কর্মসূচিতে ভূমিকা রেখেছেন। এসব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের ‘সুপার ফাইভ’-এ দায়িত্ব পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সুযোগ পেলে সংগঠনের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন শামসুল আরেফিন।