সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ‘যেকোনো মুহূর্তে’ নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুখ্য সচিব বলেন, ‘পে-স্কেল তো বিবেচনাধীন আছে এবং সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এটা আমরা বাস্তবায়ন করব। এটা চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে, যেকোনো মুহূর্তেই পে-স্কেল ঘোষণা হতে পারে।’
নানামুখী চাপে থাকা অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির হার গত ৪ বছর ধরে ৯ শতাংশের আশপাশে ওঠানামা করেছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘সেটাও আমাদের বিবেচনায় আছে, কী করতে হবে। সাধারণত ৫ থেকে ৬ বছর পরপর পে-স্কেল দেওয়ার কথা। বিগত সরকার ১১ বছর ধরে কোনো পে-স্কেল ঘোষণা করেনি, যার ফলে এই ১৮ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাপের মধ্যে আছি আমরা। তারা তো কর্মকর্তা-কর্মচারী, এখন মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের বেতন বাড়াতে হবে।
সরকারের ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে এমন প্রশ্নে মুখ্য সচিব বলেন, ‘আমাদের চ্যালেঞ্জ, আমাদের মেইন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থনীতি। অর্থনীতি ও ব্যাংক। লুটপাট হয়েছে, লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। আমরা বেসরকারি খাতকে ব্যাংক থেকে সাপোর্ট দিতে পারছি না। ‘সবকিছুর জন্য দায়ী হলো বিগত সরকার। এখন সেই জায়গা থেকে ফিরে আসতে তো সময় দিতে হবে। এটাই হচ্ছে মূল কথা।’
এর আগে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ২০ দিন আগে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করে নবম জাতীয় বেতন কমিশন।
বেতন কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়নে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ বরাদ্দ করে যাওয়ার কথাও বলেন তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। পে কমিশন যে সুপারিশ দিয়েছে, তা পরীক্ষা করার জন্য কমিটি করে দেওয়ার কথা তিনি ওই সময় বলেছিলেন।