ব্রাজিলের সাঁও জানুয়ারিও স্টেডিয়ামে ভাস্কো দা গামা ও সান্তোসের মুখোমুখি ম্যাচের আগেই ছড়িয়ে পড়েছিল প্রচণ্ড উত্তাপ। ম্যাচ শুরুর প্রথাগত কুশল বিনিময়ের সময় ভাস্কোর মিডফিল্ডার থিয়াগো মেন্দেস সান্টোসের তারকা নেইমারের দিকে হাত না বাড়িয়ে তাঁকে এড়িয়ে যান। ক্যামেরা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মুহূর্তটি ভাইরাল হতে সময় নেয়নি। নেইমারের অফিশিয়াল পেজ থেকে হতাশাজনক ইমোজি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়, অন্যদিকে গ্যালারিতে ভাস্কো সমর্থকেরা নেইমারের কান্নার ছবি সংবলিত মাস্ক উঁচিয়ে উসকানি দিতে থাকে।
নেইমারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু জোতা আমানসিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেন্দেসের তীব্র সমালোচনা করেন। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনহোর একটি বিখ্যাত উক্তি স্মরণ করিয়ে তিনি লেখেন, "আসল সুপারস্টাররা সবসময় বিনয়ী ও সহজ-সরল হন, কিন্তু সাধারণ মানের খেলোয়াড়দের অহংকারই বেশি থাকে।"
প্যারিস ও লিঁওর সেই পুরনো শত্রুতা
দুই ব্রাজিলিয়ানের মধ্যে এই বৈরিতা কিন্তু নতুন নয়। ২০২০ সালে ফরাসি লিগ ১-এ পিএসজি ও লিঁওর মধ্যকার ম্যাচে এই দ্বন্দের সূত্রপাত হয়। সেবার মেন্দেসের এক ভয়াবহ ট্যাকলে নেইমারের গোড়ালি গুরুতর জখম হয় এবং মেন্দেসকে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়। পরবর্তীতে মেন্দেস প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেও নেইমারের পরিবার ও তাঁর কাছের মানুষরা সেই ঘটনার ক্ষোভ ভোলেননি।
নেইমারের বাবা সে সময় সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছিলেন—ফুটবলে বারবার সহিংস ট্যাকলের শিকার হতে থাকলে খেলাটি তার সৌন্দর্য হারাবে এবং অপরাধীর জায়গায় সবসময় শিকারকেই কেন বলির পাঁঠা বানানো হবে?
চলতি বছর দুজনেই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে ফিরে আসার পর তাদের মধ্যকার সংঘাত আরও নতুন মাত্রা পায়। একটি ম্যাচে ফাউলকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি ও মুখে হাত দেওয়ার ঘটনা ঘটে, যেখানে নেইমার মাঠে পড়ে যান এবং দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখতে হয়। প্রথমার্ধ শেষে টানেলে যাওয়ার পথেও তাদের মধ্যে তীব্র তর্কাতর্কি চলে।
পরবর্তীতে একটি সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে মেন্দেস সম্পর্কে সোজা শাপটা মন্তব্য করেন নেইমার। তিনি বলেন, "সে সবসময় ঝামেলা পাকাতে চায় এবং নিজেকে শক্ত পুরুষ হিসেবে জাহির করতে চায়। সত্যি বলতে, সে একটা অপদার্থ।"
সাঁও জানুয়ারিওতে ম্যাচের সময় গ্যালারির পরিবেশও ছিল বেশ বৈরী। ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে ওয়ার্ম-আপের সময় থেকেই ভাস্কো সমর্থকেরা নেইমারকে লক্ষ্য করে ভুয়াধ্বনি দেয় ও কটূক্তি করতে থাকে।
জয় সান্তোসের
ভাস্কো দা গামাকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েচে সান্তোস। এই মৌসুমে প্রথমবারের মতো প্রতিপক্ষের মাঠে জয়ের মুখ দেখল নেইমাররা।
১-০ (২২ মিনিট): বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে সান্টোসকে এগিয়ে দেন গাবিগোল।
২-০ (৩১ মিনিট): নেইমারের ফ্রি-কিক থেকে লিও জার্দিম বল বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হলে উইলিয়ান আরাওর গায়ে লেগে বল জালে ঢোকে।
৩-০ (৩৫ মিনিট): নেইমারের নেওয়া ফ্রি-কিক জার্দিম ঠিকমতো গ্রিপ করতে না পারলে ফিরতি বলে গোল করেন লুয়ান পেরেস।