ঋণপত্র (এলসি) খোলার বিশেষ অনুমতি পেয়েছে বিতর্কিত ও ঋণ খেলাপি এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেড। শতভাগ নগদ মার্জিনের বিপরীতে রাষ্ট্রমালিকানাধীন রূপালী ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে এলসি খুলতে পারবে। আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সুবিধা কার্যকর থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এ বিশেষ অনুমতি-সংক্রান্ত নির্দেশনা রবিবার (১৬ আগস্ট) রাতে দেশের সব ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১২১ ধারায় সরকারের সঙ্গে পরামর্শে রূপালী ব্যাংককে এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে শতভাগ নগদ মার্জিনে আমদানি ঋণপত্র খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাঁচামাল আমদানিতে বিঘ্ন ঘটলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর আগেও কর্মসংস্থান ও উৎপাদন অব্যাহত রাখার স্বার্থে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারা এলাকায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এস আলম গ্রুপ ও চীনা অংশীদারদের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদনক্ষমতা ৬৬০ মেগাওয়াট। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এটি বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডে এস আলম গ্রুপের ৭০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। বাকি ৩০ শতাংশের মালিক চীনের সেপকো থ্রি ও এইচটিজি ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে-বেনামে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর একটি বড় অংশ বর্তমানে খেলাপি। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, খেলাপি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নতুন ঋণসুবিধা বা এলসি খোলার সুযোগ সাধারণত নেই।