বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে ঋণের সুদের হার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
তবে এজন্য আমানতের সুদের হারও ধীরে ধীরে কমাতে হবে, কারণ উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহ করে কম সুদে ঋণ দেওয়া ব্যাংকগুলোর পক্ষে সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার (৪ আগষ্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে অনেক ব্যাংক দ্বি-অঙ্কের সুদে আমানত সংগ্রহ করছে। ফলে এসব ব্যাংকের পক্ষে ১৪-১৫ শতাংশের নিচে ঋণ বিতরণ করা কঠিন। তাই ঋণের সুদ কমাতে হলে প্রথম ধাপে আমানতের সুদের হারও কমাতে হবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি ব্যাংক এ উদ্যোগ নিয়েছে। এটিকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, শুধু সুদের হারের ওপর নির্ভর করেই মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখে-এ ধারণা সঠিক নয়। ব্যাংকে আমানত রাখার পেছনে নিরাপত্তা, ভবিষ্যতের সঞ্চয় এবং উদ্বৃত্ত অর্থ সংরক্ষণের বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমানতের সুদ কিছুটা কমলেও এতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি মনে করেন না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, শিল্পায়ন ও ব্যবসা সম্প্রসারণে স্বল্প সুদের ঋণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিই একমাত্র শর্ত নয়। গ্যাস, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও অবকাঠামোসহ অন্যান্য সহায়ক সুবিধাও নিশ্চিত করতে হবে। এসব বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করবে। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব হলো উদ্যোক্তাদের জন্য তুলনামূলক কম খরচে অর্থায়নের পরিবেশ নিশ্চিত করা।
তিনি জানান, দেশের সব ব্যাংকের অবস্থা এক নয়। কিছু ব্যাংকের পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে, কিন্তু বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত। আবার কিছু ব্যাংক তারল্য সংকটে থাকায় গ্রাহকদের ঋণচাহিদা পূরণ করতে পারছে না। তাই নীতিনির্ধারণের সময় পুরো ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়।
ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতির বিষয়ে আরিফ হোসেন খান বলেন, এর মূল কারণ খেলাপি ঋণ। খেলাপি ঋণ আদায় বাড়ানো গেলে প্রভিশন ঘাটতি কমবে, মূলধন শক্তিশালী হবে এবং তারল্য পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে। এজন্য ব্যাংকারদের অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও বিতর্কমুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন পর্ষদ গঠনের কাজ চলছে। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো সম্ভব নয়।
অর্থ পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। তবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ বিষয়ে কাজ চলছে। একই সঙ্গে যেসব বেসরকারি ব্যাংকে পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে সমস্যা ছিল, সেগুলো পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দুর্বল পরিচালকদের পরিবর্তন করা হচ্ছে।
সরকারের ব্যাংকঋণ গ্রহণ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, অর্থবছরের প্রথম মাসের তথ্য দিয়ে পুরো বছরের চিত্র মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। বছরের বিভিন্ন সময়ে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।
এদিকে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনও পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
