পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার ৩৫ নম্বর জলিশা বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভুয়া জমিদাতাকে দাতা সদস্য মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) জলিশা গ্রামের মৃত মীর মোফাক্ক আলীর ছেলে মীর লিয়াকত হোসেন, রাজা মনজুরার রহমানের ছেলে রাজা মশিউর রহমান ও বশির উদ্দিনের মেয়ে তামান্না আক্তার বাদী হয়ে পটুয়াখালী সহকারী সিভিল জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বিবাদী করা হয়েছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিনারা বেগম, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, দুমকির ইউএনও এবং মো. আশিফুর রহমান (পিতা-মৃত আতিকুর রহমান) ও রাজা আবদুস সালাম (পিতা-মৃত নেছার উদ্দিন), উভয়ই জলিশা এলাকার বাসিন্দা।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রকৃত জমিদাতা না হয়েও প্রভাব খাটিয়ে কিছু ব্যক্তিকে দাতা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনে অনিয়ম ও নীতিমালা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, জমি দানের প্রকৃত তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়াই কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফলে প্রকৃত দাবিদারদের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিরোধ চলছিল বলে জানা গেছে।
এ অবস্থায় ক্ষুব্ধ হয়ে বাদীরা আদালতের শরণাপন্ন হন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিনারা বেগম বলেন, জমিদাতাদের নিয়ে একাধিক সভা করেও সমঝোতা না হওয়ায় নিয়মানুযায়ী তালিকা প্রণয়ন করে শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে দাখিল করা হয়েছে। পরে ইউএনও তালিকা থেকে একজনকে দাতা সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেন। এতে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় সচেতন মহল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনে স্বচ্ছতা ও সঠিক যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।