দুমকিতে খালের জমি বেদখল, নির্বিকার প্রশাসন

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পীরতলা বাজার, আঙ্গারিয়া বন্দর, দুমকি সাতানীর কালভার্ট বাজার, মুরাদিয়া বোর্ড অফিস বাজার ও জলিশা কদমতলা বাজারসংলগ্ন খালের সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমি দীর্ঘদিন ধরে দখল ও ভরাটের অভিযোগ উঠেছে।

খালের জায়গা ভরাট করে দোকানপাট, বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে ভোগদখল করা হলেও এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দৃশ্যমান কার্যকর উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে সরকারি সম্পত্তি বেহাত হওয়ার পাশাপাশি খাল সংকুচিত হয়ে পানি নিষ্কাশন ও স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দুমকি উপজেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী পীরতলা খালের দুই পাড়ে গড়ে ওঠা অনেক অস্থায়ী দোকানের পেছনের অংশ ধীরে ধীরে ভরাট করে দোকানের পরিসর বাড়ানো হয়েছে। কোথাও কোথাও নির্মাণ করা হয়েছে স্থায়ী স্থাপনাও।

একই সঙ্গে খালে বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে দূষণের পাশাপাশি নাব্যতা সংকট তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের দখল ও ভরাটে খালটি বিভিন্ন স্থানে সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

শুধু পীরতলা খাল নয়, উপজেলার আঙ্গারিয়া বন্দর, দুমকি সাতানীর কালভার্ট বাজার, মুরাদিয়া বোর্ড অফিস বাজার ও জলিশা কদমতলা বাজারসংলগ্ন খালের পাড়ের সরকারি খাস জমিও দখলের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রথমে কাঠ, বাঁশ ও টিন দিয়ে অস্থায়ী দোকান নির্মাণের মাধ্যমে দখল শুরু হয়। পরে এসব স্থাপনা ধীরে ধীরে পাকা ও স্থায়ী রূপ নেয়। এভাবে দখল বাড়তে থাকায় অনেক স্থানে খালের জায়গা সংকুচিত হয়েছে।

পীরতলা বাজারের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২০২২ সালে ভূমি অফিসের লোকজন এসে খালের মাপজোক করেছিলেন। তখন বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হলেও পরে উচ্ছেদ অভিযান আর এগোয়নি। কেন অভিযান থেমে যায়, সে বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য জানাতে পারেননি।

মুরাদিয়া বোর্ড অফিস বাজারের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ব্রিজ থেকে দক্ষিণ দিকে অন্তত আট থেকে ১০টি প্লটে সরকারি খালের জমি ভরাট করে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। একবার উচ্ছেদের নোটিশও হয়েছিল। পরে আর উচ্ছেদ করা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, সরকারি খাস জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ভূমি প্রশাসনের নজরের বাইরে থাকার কথা নয়। কিন্তু দখলদার ও অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে উচ্ছেদের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ভূমি প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দখলদারদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খাল দখল ও ভরাটের কারণে সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ও কৃষিকাজের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে খাল সংকুচিত থাকার কারণে পানি দ্রুত নিষ্কাশিত না হলে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও বাড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বাজার ও খালসংলগ্ন সরকারি খাস জমির সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল ও স্থাপনার তালিকা প্রণয়ন এবং আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দখলদারদের কাছ থেকে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের মাধ্যমে খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার দাবি তাদের।

এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পিরতলা খালের বেদখলের জমি উদ্ধারে দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে। খাল খনন প্রকল্পের কাজের সাথে অবৈধ স্থাপণা উচ্ছেদ করা হবে। কবে নাগাদ শুরু হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী দু‘একমাসের মধ্যেই উচ্ছেদ কার্যক্রম দেখতে পাবেন।

সরকারি খাস জমি দখলের এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসন সরেজমিনে পরিদর্শন করে দখল ও স্থাপনার প্রকৃত চিত্র নিরূপণ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

 

 

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত