বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সীমান্ত হত্যা মামলায় ৩ ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড

নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ওয়াজেদ আলম সীমান্ত হত্যা মামলায় তিন ছিনতাইকারীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও ছিনতাই মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন অনিক, আকাশ খান ও চান্দি বাবু।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর ভোর ৬টার দিকে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এআইইউবি) কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সীমান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে শহরের দেওভোগ এলাকায় মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন।

এ সময় ছিনতাইয়ে বাধা দিলে তাদের সঙ্গে সীমান্তের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে ব্যাগ ও মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে আশপাশের লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় সীমান্তকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা হাজী আলম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।

পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজিবুল্লাহ বিপু জানান, মামলায় ২৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দিয়েছেন। রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি আশা করেন, উচ্চ আদালতও রায় বহাল রাখবে এবং দ্রুত তা কার্যকর করা হবে।

নিহতের বাবা মো. আলম পারভেজও রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি রায় দ্রুত কার্যকর করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান।

এদিকে রায় ঘোষণার পর আদালতপাড়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি অনিকের স্ত্রী। দুই শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি কান্না করতে করতে স্বামী অনিককে নির্দোষ দাবি করেন।