বগুড়ায় নিম্নমানের তুলা ও টিস্যু দিয়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরি এবং অনুমোদনহীনভাবে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে র্যাব ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যৌথ দল। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরির অংশটি সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপপরিচালক মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এরআগে রবিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সদর উপজেলার চক ফরিদ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ অভিযানে র্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্পের সদস্যরা ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বগুড়া ও র্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্প জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ‘এশা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। সেখানে নারীদের ব্যবহারের স্যানিটারি ন্যাপকিন অত্যন্ত নিম্নমানের তুলা ও টিস্যু দিয়ে তৈরি করতে দেখা যায়। কোনো ধরনের মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই এসব পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছিল, এছাড়া বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) অনুমোদন বাধ্যতামূলক হলেও প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদন ছাড়াই এসব পণ্য তৈরি করছিল। পণ্যের মোড়কে ভুল ঠিকানা হিসেবে ঢাকার ধামরাইয়ের ঠিকানা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন পণ্য তৈরি করছিল। জবা ও সেফ কেয়ার নামে উৎপাদিত স্যানিটারি ন্যাপকিনের মোড়কে ধামরাইয়ের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল, যা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪৪ ধারায় প্রতারণার শামিল।
তিনি আরও বলেন, ন্যাপকিন তৈরিতে অত্যন্ত নিম্নমানের তুলা ও সাধারণ ফ্রেশ টিস্যু ব্যবহার করে তা মোড়কজাত করা হচ্ছিল। এ ধরনের পণ্য নারীদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করার পাশাপাশি অবৈধ উৎপাদনস্থল সিলগালা করা হয়েছে।
র্যাব-১২ বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার ফিরোজ আহমেদ বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কারখানাটির বিষয়ে জানতে পেরে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে তাদের সহযোগিতায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা ও সিলগালা করা হয়েছে। তবে কারখানার যেসব অংশে ঝুঁকিমুক্ত অন্যান্য পণ্য তৈরি করা হচ্ছিল, সেগুলো সচল রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে আরও দেখা যায়, অনুমোদন ছাড়াই নিম্নমানের নেবুলাইজার মেশিন ও ব্রেস্ট ফিডিং পাম্প তৈরির কাজও চলছিল। এসব পণ্যও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির মালিক এমদাদুল হককে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরির অংশটি সাময়িকভাবে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।