দুই স্ত্রীর হাতাহাতিতে জ্ঞান হারালেন মিসরের কোচ হাসান

মিসরের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলের এক রিসোর্ট হোটেলে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পারিবারিক গোলযোগের মুখে পড়েছেন দেশটির জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। বর্তমান স্ত্রী ও সাবেক স্ত্রীর সন্তানদের হাতাহাতি ও তুমুল উত্তেজনার মাঝে পড়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। স্কাই নিউজ অ্যারাবিয়া ও মিসরীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

উত্তর উপকূলের মেরিনা রিসোর্ট এলাকার একটি বিলাসবহুল হোটেলের ক্যাফেতে এই ঘটনাটি ঘটে। সেখানে বর্তমান স্ত্রী দান-আদামের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন কোচ হাসান। মিসরের বিখ্যাত শিল্পী মোহামেদ রমাদানের একটি কনসার্ট উপভোগ শেষে হোটেল ক্যাফেতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তাঁরা।

হঠাৎ করেই হাসানের সাবেক স্ত্রী হুয়ায়দার সন্তানরা সেখানে এসে পৌঁছায়। তারা আসন থেকে টেনে তুলে হাসানকে তাদের সঙ্গে চলে যাওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। এতেই শুরু হয় বাদানুবাদ।

ক্যাফেতে হট্টগোল ও হাতাহাতি

পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যখন হাসানের বর্তমান স্ত্রী দান-আদাম, সাবেক স্ত্রী হুয়ায়দা ও তাঁর কন্যার মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কথা-কাটাকাটি মুহূর্তের মধ্যেই তুমুল হাতাহাতি ও কিল-ঘুষিতে রূপ নেয়।

দান-আদামের অভিযোগ, প্রতিপক্ষ দল তাঁর মুখে গরম কফি ছুঁড়ে মারে এবং তাঁকে চড়-থাপ্পড় ও চুল ধরে টানাটানি করা হয়। এমনকি সেই বিশৃঙ্খলার মাঝে তাঁর সঙ্গে থাকা শিশু সন্তানকেও ধাক্কাধাক্কি করা হয়।

অসহায় কোচের সাময়িক অচেতনতা

একদিকে বর্তমান স্ত্রী ও সন্তান, অন্যদিকে সাবেক স্ত্রীর সন্তানরা—দুই পক্ষের সংঘাতের মাঝে পড়ে চরম অসহায় হয়ে পড়েন মিসরীয় কোচ। কাকে ছেড়ে কাকে সামলাবেন বুঝতে না পেরে একপর্যায়ে অতিরিক্ত মানসিক চাপে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে যান তিনি। এতে হোটেলের সাধারণ অতিথিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশি প্রক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া

ঘটনার পর সাবেক স্ত্রী হুয়ায়দা পুলিশ স্টেশনে গেলেও পরবর্তীতে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন।

অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বর্তমান স্ত্রী দান-আদাম নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একাধিক ব্যক্তি তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেছে। তিনি বলেন, "পুরোটা সময় হাসান মাঝখানে দাঁড়িয়ে খুব অসহায়বোধ করছিলেন। পুলিশ এখন বিষয়টি তদন্ত করছে এবং আমি ন্যায্য বিচার চাই।"