শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এবার এসএসসির উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য ইতিমধ্যে ১২ লাখেরও অধিক খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন জমা পড়েছে। অবস্থা দেখে মনে হয় প্রায় সব শিক্ষার্থীই খাতা পুনর্মূল্যায়ন করতে চায়। যা পুনর্মূল্যায়ন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য বিষয়। তাই আমরা খাতা পুনর্মূল্যায়নে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা করছি, যাতে কোন ধরনের খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা যাবে সেগুলোর আওতা নির্দিষ্ট করা যায়। গতকাল সোমবার একটি অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে ১২ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এসব আবেদনের নিষ্পত্তি করে শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তি কার্যক্রমও এগিয়ে নিতে হবে। বিপুলসংখ্যক খাতা পুনঃমূল্যায়ন করতে গেলে ভর্তি প্রক্রিয়ায়ও বিলম্ব হতে পারে।’ আবেদনগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে যারা আবেদন করেছে, তাদের ক্ষেত্রে টেবুলেশন শিট ও নিরীক্ষার বিষয়গুলো যাচাই করা হবে। যেসব খাতায় গুরুতর সমস্যা বা অসংগতি পাওয়া যাবে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেখা হবে।’
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সব বোর্ড মিলিয়ে ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। পরীক্ষার ফলের উপর পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনের সময়সীমা ছিল ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট ১২টা পর্যন্ত।
এআইয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান
গতকাল সোমবার ঢাকার একটি হোটেলে ‘কিউএস বাংলাদেশ ফোরাম ২০২৬’ এ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এতে বাংলাদেশের ৯০টিরও অধিক বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এর উপর গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের বিপুলজনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে হলে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) এর বিকল্প নেই। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও টিভিইটি এর উপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এর ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।