জাহাজ কেনাসহ ১১ প্রকল্প উঠছে একনেকে

আমদানিকৃত জ্বালানি পরিবহনে বিদেশি জাহাজের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা কমাতে দুটি আধুনিক প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘অ্যাকুইজিশন অব টু প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার্স’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ৪০ হাজার থেকে ৫৫ হাজার ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার দুটি ট্যাংকার কেনা হবে। আগামীকাল বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অর্থ এবং পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ অন্যান্য সদস্য এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। সভায় নতুন সাতটি ও সংশোধিত চারটিসহ মোট ১১টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একনেক আলোচ্য সূচিতে রয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া ‘অ্যাকুইজিশন অব টু প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার্স’ প্রকল্পটি। এর মূল লক্ষ্য আমদানিকৃত পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহনে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজের ওপর নির্ভরতা কমানো। প্রকল্পের প্রস্তাবিত মেয়াদ ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রকল্পের মোট ১ হাজার ৪৫৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি দুটি অয়েল ট্যাংকার কেনার জন্য বরাদ্দ রাখা হবে। এ ছাড়া ব্যবস্থাপনায় ৮ কোটি ৫৬ লাখ, সাধারণ সরঞ্জামে ৮ কোটি ৪৬ লাখ, পরামর্শক ব্যয়ে ৪৩ লাখ, আইনি ব্যয়ে ১ কোটি ৯৮ লাখ এবং ব্যাংক চার্জ বাবদ ৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সম্মিলিতভাবে প্রায় এক লাখ টন ধারণক্ষমতার জাহাজ দুটি সংগ্রহ করে সচল রাখা গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় অতিরিক্ত মজুদ সক্ষমতা হিসেবে কাজ করবে। সীমিত সংরক্ষণাগার বা স্টোরেজ সক্ষমতার কারণে এ ধরনের ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে প্রায় ২ হাজার ৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি জাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তবে অর্থায়নের সীমাবদ্ধতার কারণে আগের পরিকল্পনা সংশোধন করে বর্তমানে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে দুটি জাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যমতে, নতুন জাহাজ দুটি মূলত পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, উড়োজাহাজের জ্বালানি (অ্যাভিয়েশন ফুয়েল) এবং নির্দিষ্ট কিছু হালকা তরল পণ্য পরিবহন করবে। তবে অপরিশোধিত তেল বা ভারী রাসায়নিক পরিবহনের উপযোগী করে এগুলো তৈরি করা হবে না।

একনেকের সূচিতে থাকা আরও ১০টি প্রকল্প হলো ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনাসমূহ প্রতিস্থাপন ও পুনর্ন্মর্ািণ প্রকল্প; ১০টি মেডিকেল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ১৯টি হোস্টেল ভবন নির্মাণ (প্রস্তাবিত ১ম সংশোধন) প্রকল্প; বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন সেতুগুলোর স্মার্ট রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়ন প্রকল্প; ধরলা নদীর ডান তীরের ভাঙন থেকে লালমনিরহাট জেলার সদর উপজেলা রক্ষা প্রকল্প; চট্টগ্রাম জেলার সীতাকু- উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট এবং বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট থেকে কুমিরাঘাট পর্যন্ত উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালীকরণ প্রকল্প; মেট্রো ঢাকা প্রকল্প : গোড়ানচটবাড়ী রিটেনশন পন্ড এবং তুরাগ নদী সুরক্ষা ও সংরক্ষণ প্রকল্প (১ম পর্যায়); গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প; প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সক্ষমতা জোরদারকরণ (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প; জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প এবং ঢাকাস্থ ডেসকো এলাকায় বৈদ্যুতিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ (১ম সংশোধন) প্রকল্প।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত নয়টি প্রকল্পের বিষয়ে একনেক সভায় অবহিত করা হবে। প্রকল্পগুলো হলোবিএসএল-৩ গবেষণাগার স্থাপন এবং ভ্যাকসিন ও বায়োলজিকস গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা; বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (বেস্ট) (১ম সংশোধিত) প্রকল্প; সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্প (২য় সংশোধিত); দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ট্রান্সমিশন গ্রিড সম্প্রসারণ প্রকল্প (২য় সংশোধিত); ঢাকাস্থ গুলশানে ১৩২/৩৩/১১ কেভি ভূগর্ভস্থ গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প (অসমাপ্ত রেখে সমাপ্তকরণের লক্ষ্যে সংশোধন); ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প (২য় সংশোধিত); মসজিদ পাঠাগার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ (৪র্থ পর্যায়) প্রকল্প; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জনসেবা প্রদানে নিউ মিডিয়ার সর্বোত্তম ব্যবহার প্রকল্প এবং কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলা এবং নোয়াখালীর ভাসানচরে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধন)।