হাঁপানি সমস্যা ও সুস্থ থাকা

শ্বাসকষ্ট, বুকে সাঁই সাঁই শব্দ, কাশি এবং বুক চেপে আসা এগুলোই হলো অ্যাজমা বা হাঁপানির প্রধান লক্ষণ। অ্যাজমা হলো শ্বাসনালির এক ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত রোগ। এই রোগে শ্বাসনালি অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে যায় এবং বিভিন্ন অ্যালার্জেন বা উত্ত্যক্তকারী উপাদানের সংস্পর্শে এলে সংকুচিত হয়ে পড়ে, ফলে স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যাহত হয়।

অনেকেই মনে করেন অ্যাজমা ছোঁয়াচে রোগ। যা কখনোই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়, এটা পুরোপুরি ভুল ধারণা। সঠিক চিকিৎসা ও সচেতনতার মাধ্যমে অ্যাজমা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ মানুষের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব।

উদ্বুদ্ধকারী উপাদান বা ‘ট্রিগার’ চেনা জরুরি

অ্যাজমার আক্রমণ থেকে বাঁচতে হলে যে বিষয়গুলো শ্বাসকষ্ট বাড়ায়, সেগুলো চিহ্নিত করে এড়িয়ে চলতে হবে। ধূলিকণা, ধোঁয়া, গৃহপালিত পশুপাখির লোম, ফুলের পরাগরেণু, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের ছত্রাক এবং অতিরিক্ত ঠা-া আবহাওয়া অ্যাজমার প্রধান ট্রিগার হিসেবে কাজ করে। এছাড়া ধূমপান এবং পরোক্ষ ধূমপান অ্যাজমা রোগীদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রতিরোধ

অ্যাজমা চিকিৎসার মূল ভিত্তি হলো ‘ইনহেলার’। অনেকের ধারণা ইনহেলার হলো চিকিৎসার শেষ ধাপ, কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিই সবচেয়ে নিরাপদ এবং কার্যকরী প্রথম সারির ওষুধ। ইনহেলার সরাসরি শ্বাসনালিতে কাজ করে, তাই এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অত্যন্ত কম। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কখনোই ইনহেলার বা ওষুধ বন্ধ করা যাবে না।

ধুলোবালি এড়িয়ে চলতে বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করুন। ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রাখুন এবং নিয়মিত বিছানার চাদর ও বালিশের কভার গরম পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার রাখুন। লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে অ্যাজমা অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করুন। মনে রাখবেন, নিয়মিত ওষুধ সেবন ও সচেতনতাই অ্যাজমা জয়ের চাবিকাঠি। সুস্থ থাকুন, মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিন।