মার্কিন স্থল অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই হরমুজ প্রণালীকে নিজেদের ভূখণ্ড ঘোষণা করতে পারে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর ইরানের অবস্থান আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করে আল জাজিরা।  

ওয়াশিংটনের সঙ্গে করা একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক কৌশলে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদোল্লাহ জাভানি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, দেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে তার বাহিনী প্রস্তুত।

জুনে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। গত মাসে আবারও সংঘাত শুরু হলে এমওইউ কার্যত ভেঙে পড়ে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে সোমবার।

জাভানি বলেন, ‘শত্রুই যুদ্ধ শুরু করেছিল এবং আমাদের প্রচেষ্টা ছিল প্রতিরক্ষামূলক। তবে তা আক্রমণাত্মক রূপও নিতে পারে।’

কী ধরনের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি জাভানি। তবে তিনি প্রতিপক্ষকে ‘নতুন চমক’-এর জন্য প্রস্তুত থাকার সতর্কতা দিয়েছেন।

আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি গত সপ্তাহে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তাহলে মার্কিন ও আঞ্চলিক মিত্রদের জ্বালানি নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ইন্টারনেট-সংযুক্ত অবকাঠামো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

ইরানে কট্টরপন্থী রাজনীতিক ও গণমাধ্যমগুলো ওয়াশিংটন ইরানে স্থল অভিযান চালালে বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে স্থল হামলা চালানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করছে।

তবে বিশ্লেষকেরা এমন পদক্ষেপের বাস্তবতা ও ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে—এমন সাম্প্রতিক কোনো ইঙ্গিতও নেই।