মাধবপুরে শাহজালাল সরকারি কলেজ থেকে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে ১০৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এসব পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষা উপলক্ষে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কলেজটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই শিক্ষক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁদের দাবি, অন্য কলেজ থেকে আসা বহিরাগত পরীক্ষকদের আপ্যায়ন, যাতায়াত ভাতা এবং অন্যান্য খরচ মেটানোর জন্য পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে এই অর্থ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের অর্থ নেওয়ার রীতি চলে আসছে।
বাড়তি টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন শাহজালাল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, বহিরাগত পরীক্ষকদের আপ্যায়ন ও যাতায়াত ভাতাসহ বিভিন্ন খরচের জন্য পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে এই টাকা নেওয়া হয়। তাঁর দাবি, বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডসহ সারা দেশের সংশ্লিষ্টরা জানেন।
এদিকে মাধবপুরের সৈয়দ সঈদ উদ্দীন ডিগ্রি কলেজে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে ৩৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩২ জন ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। বাকি তিনজন ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেয়নি বলে জানিয়েছেন কলেজটির অধ্যক্ষ জহীর উদ্দিন।
অধ্যক্ষ জহীর উদ্দিন বলেন, ব্যবহারিক পরীক্ষায় বাড়তি সুবিধা দেওয়ার জন্য পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয় না।
অন্যদিকে ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতা লেখা ও আঁকার কাজ করিয়ে নেওয়ার জন্য মাধবপুরে ‘প্র্যাকটিকেল মেকার’ নামে একটি অনলাইনভিত্তিক পেজ রয়েছে। পেজটির পরিচালক ইশতিয়ার জানান, ব্যবহারিক খাতা লেখা ও আঁকার জন্য খাতাপ্রতি ৩৫০ টাকা নেওয়া হয়।
তবে তাঁর কাছ থেকে কতজন শিক্ষার্থী ব্যবহারিক খাতার কাজ করিয়ে নেয়, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা জানাননি তিনি। ইশতিয়ার বলেন, অনেক পরীক্ষার্থীই তাঁর কাছে ব্যবহারিক খাতার কাজ করাতে আসে। অর্ডারের পরিমাণ বেশি হলে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য সহযোগী রাইটারও নিয়োগ করেন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর বক্তব্যে পার্থক্য দেখা গেলেও ব্যবহারিক পরীক্ষা ঘিরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।