চট্টগ্রাম বাদে সব বোর্ডের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ, ফল নভেম্বরের শুরুতে

২০২৬ সালের এই এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে নানা অসংগতি ঘিরে ব্যাপকভাবে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নে ভুল, রসায়নের প্রশ্নে অসংগতি, কয়েকটি কেন্দ্রে ভুল পাঠ্যসূচির প্রশ্ন বিতরণ এবং বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা আয়োজনের অভিযোগ ছিল দৃষ্টিকটু।

 

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম

ভারী বর্ষণ, বন্যা এবং নানা বিতর্ক-আলোচনার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম ছাড়া দেশের বাকি সব শিক্ষা বোর্ডে শেষ হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় পরীক্ষা। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বোর্ডের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর, নভেম্বরের প্রথমার্ধেই দেশের সব বোর্ডের ফল একসঙ্গে প্রকাশ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে শিক্ষা প্রশাসন।

 

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে সাধারণ ৯টি বোর্ডে ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা দ্বিতীয় পত্র, শিশু বিকাশ দ্বিতীয় পত্র এবং বিকেলে সমাজবিজ্ঞান, সমাজকর্ম ও ক্রীড়া দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার মাধ্যমে তত্ত্বীয় অংশ সম্পন্ন হয়। একই দিন মাদ্রাসা বোর্ডের আলিমের উচ্চতর গণিত দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ভোকেশনাল ও বিএমটির তত্ত্বীয় পরীক্ষা আগেই শেষ হয়েছিল।

 

চলতি বছরের ২ জুলাই ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে সারাদেশে একযোগে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। এবার প্রথমবারের মতো সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

 

তবে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি ও কক্সবাজার জেলার পরীক্ষা ৮ জুলাই থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত ছিল। পিছিয়ে যাওয়া এই পরীক্ষাগুলো আগামী ৯ সেপ্টেম্বর শেষ হবে।

 

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, নিয়ম অনুযায়ী তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা হয়ে থাকে। যেহেতু এবার সারাদেশে অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা হয়েছে এবং ফল একযোগেই প্রকাশিত হবে, তাই চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা শেষ হওয়ার দিন (৯ সেপ্টেম্বর) থেকে সময় হিসাব করা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী আগামী নভেম্বর মাসের প্রথমার্ধেই এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

২০২৬ সালের এই এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে নানা অসংগতি ঘিরে ব্যাপকভাবে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নে ভুল, রসায়নের প্রশ্নে অসংগতি, কয়েকটি কেন্দ্রে ভুল পাঠ্যসূচির প্রশ্ন বিতরণ এবং বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা আয়োজনের অভিযোগ ছিল দৃষ্টিকটু।

 

এমনকি চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিতসহ বিভিন্ন দাবিতে পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ আন্দোলনও করতে দেখা গেছে। এসব অসংগতি পেরিয়ে অবশেষে বাকি বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হলো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত