‘নবাব’ ও ‘মিয়া ভাই’র জন্মদিন আজ

দেশীয় চলচ্চিত্রের দুই জাঁদরেল অভিনেতা প্রবীর মিত্র ও আকবর হোসেন পাঠান ফারুকের জন্মদিন আজ ১৮ আগস্ট। ১৯৪১ সালের এই দিনে চাঁদপুরে জন্ম নেন ‘রঙিন নবাব’খ্যাত প্রবীর মিত্র। অন্যদিকে ‘মিয়া ভাই’ উপাধি পাওয়া চিত্রনায়ক ফারকের জন্ম ১৯৪৮ সালে, গাজীপুরে। দুই কিংবদন্তি অভিনেতাই না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। 

বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে নিয়ে একটি সিনেমা হয়েছিল ১৯৬৭ সালে। নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন আনোয়ার হোসেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি পরিচিতি পান ঢাকাই সিনেমার ‘মুকুটহীন নবাব’ হিসেবে। এর ২২ বছর পর রঙিন ফরম্যাটে ফের সিরাজউদ্দৌলাকে নিয়ে সিনেমা হয়। ‘রঙিন নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ নামের এ সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন প্রবীর মিত্র। এরপর অসংখ্য সিনেমায় নায়ক এবং পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। ‘বড় ভালো লোক ছিল’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ১৯৮৩ সালে। এরপর ২০১৯ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা অর্জন করেন এই তারকা। 

স্কুলে পড়াকালীন প্রথমবার নাটকে অভিনয় করেন প্রবীরমিত্র। পরে মুক্তিযুদ্ধের আগে এইচ আকবরের ‘জলছবি’ দিয়ে নাম লেখান সিনেমায়। মজার ব্যাপার হলো, এই একই সিনেমা দিয়ে অভিষেক হয় চিত্রনায়ক ফারুকেরও। তিনি চিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা। যদিও মুক্তিযুদ্ধের আগেই প্রথম সিনেমা ‘জলছবি’তে যুক্ত হন তিনি। এইচ আকবর পরিচালিত সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৭১ সালে। 

এরপর ১৯৭৩ সালে খান আতাউর রহমানের ‘আবার তোরা মানুষ হ’ এবং পরের বছর নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘আলোর মিছিল’-এ অভিনয় করে নিজেকে প্রমাণ করেন। অতঃপর ১৯৭৫-এ ‘সুজন সখী’ ও ‘লাঠিয়াল’ সিনেমা দুটির মাধ্যমে তিনি দেশব্যাপী জনপ্রিয়তা পান।  পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্র প্রযোজনাও করেন ফারুক। এরপর ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ছিলেন পুরোদস্তুর একজন রাজনীতিবিদ। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ফারুক থেকেছেন আমৃত্যু। ছাত্রজীবন থেকে দলটির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধেও অংশ নেন। মৃত্যুর আগপর্যন্ত ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকটি অঙ্গসংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। 

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ফারুক। ‘লাঠিয়াল’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছিলেন। এরপর আর এ পুরস্কারে আসেনি তার নাম। ২০১৬ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তাকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।