মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে চুক্তির সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় মঙ্গলবার টানা তৃতীয় দিনের মতো বেড়েছে তেলের দাম। ইরান আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির চুক্তির মেয়াদ বাড়াবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। এতে জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্নের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩৫ সেন্ট বা ০.৩৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ২২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৮১ সেন্ট বা ০.৯৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ৩১ ডলারে উঠেছে।
দুই ধরনের তেলের দামই টানা তৃতীয় দিনের মতো বাড়ার পথে রয়েছে। লেনদেনের একপর্যায়ে ব্রেন্টের দাম ৩০ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৩১ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে।
আইএনজি ব্যাংকের বিশ্লেষকেরা এক নোটে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তির মেয়াদ না বাড়ানোর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত এবং হরমুজ প্রণালীর অব্যাহত নিরাপত্তা উদ্বেগ তেলের বাজারের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’
শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল পুনরায় শুরুর প্রক্রিয়া থমকে গেছে। এতে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ওয়াশিংটন অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবে না বলে জানিয়ে দেওয়ার পর ইরানও যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের প্রচেষ্টা থমকে যাওয়ায় ‘পুরোপুরি আক্রমণাত্মক’ সামরিক অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সোমবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
ডিবিএস ব্যাংকের জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সুব্রো সরকার বলেন, ‘কোনো ধরনের চুক্তি না হলে চতুর্থ প্রান্তিকে এবং এমনকি ২০২৭ সালেও তেলের দামের পূর্বাভাসে এর প্রভাব পড়বে।’
ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালী থেকে বেরিয়ে আসা একটি জাহাজে একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে। সাম্প্রতিক এসব হামলার কারণে প্রণালী দিয়ে দৈনিক জাহাজ চলাচলের সংখ্যা এক অঙ্কে নেমে এসেছে। সপ্তাহান্তের তুলনায় কিছুটা বাড়লেও চলাচল এখনো অত্যন্ত কম।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো হরমুজ প্রণালীর ভেতর থেকে আবারও তেল লোড করা শুরু করেছে। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ উপকূলে এক জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের প্রস্তাবও দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
এসইবি ব্যাংকের বিশ্লেষক বিয়ার্নে শিলড্রপ বলেন, ‘যখনই ইরান উপযুক্ত মনে করবে, তখন হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা সম্ভবত তাদের রয়েছে। অথবা খুব শিগগিরই তারা সেই সক্ষমতা অর্জন করবে। নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অপেক্ষায় ইরান যে বসে নেই, তা নিশ্চিত।’
এদিকে হরমুজ প্রণালী ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান আলাদাভাবে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তির আলোচনা করছে এবং দুই দেশ সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে তেহরান জানিয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের মার্কিন নিরাপত্তা অংশীদার ওমানের সঙ্গে এ আলোচনা নিয়ে ট্রাম্প দেশটিতে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন।