বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় দেড় থেকে পৌণে দুই কোটি মানুষ কোন না কোনভাবে ক্যান্সারে আক্রান্ত। এই ক্যান্সার রোগীদের জন্য দেশের কমপক্ষে ৩শ’ হাসপাতালের প্রয়োজন। তবে দেশে মাত্র ২০/২১টি ক্যান্সার হাসপাতাল রয়েছে। ফলে সামর্থ্যবানরা বিদেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বগুড়ার মমইন কনভেনশন হলের পার্টি সেন্টারের লেভেল-৩ এ কর্মশালাটি ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার, ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিকস (বগুড়া), ল্যাবএইড ফার্মা এবং বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনে আলোচকরা তাদের বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন।
কর্মশালায় বগুড়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির পরিচালক ও টিএমএসএসের উপ নির্বাহী পরিচালক ড. মতিউর রহমান (এমবিবিএস, এমপিএইচ, পিএইচডি) সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বগুড়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি এম.এস.এম. আতিকুর রহমান বাদল। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বগুড়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সদস্য ও জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ শাহাদত হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বগুড়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি এম.এস.এম আতিকুর রহমান বাদল বলেন, ল্যাবএইডকে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। কারণ আমাদের বাংলাদেশের মানুষের সক্ষমতা কম। ভারতের টাটা বিরলা মত মানবিক কাজ করতে হবে। যাতে মানুষের কল্যাণ হয়। সর্বস্তরের মানুষ যেন এখান থেকে সেবা নিতে পারে। আমাদের সকলকে একদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। তাই ল্যাবএইডকে মানুষের কল্যাণে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ডাঃ মতিউর রহমান বলেন, একজন মানুষকে তার সুস্থতার জন্য বছরে দুইবার কিছু পরীক্ষা করা দরকার। যার খরচ খুবই সামান্য। এই পরীক্ষাগুলো হলো, তার হার্ট ও কিডনী ভাল আছে কিনা, আর তার শরীরের মাঝে চর্বির পরিমাণ কত। এতে যে খরচ তা কোন ব্যবসায়ী বা মানুষের জন্য কঠিন কিছু নয়। তাই ভাল থাকতে হলে জানতে হবে। যার বয়স চল্লিশ পেরিয়েছে তার এই পরীক্ষা অবশ্যই করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের ক্যান্সারের যে পরিসংখ্যান, তা হলো- প্রতিদিনে প্রায় ১২ থেকে ১৫ শতাংশ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। অর্থাৎ দেশে ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় দেড় থেকে পৌণে ২ কোটি মানুষ কোনো না কোনো ক্যান্সারে আক্রান্ত। এই ক্যান্সার রোগীদের জন্য আমাদের কম করে ৩ শতাধিক ক্যান্সার হসপিটাল দরকার। অথচ আমাদের দেশে আছে মাত্র ২০/২১টি প্রতিষ্ঠান। ফলে আমাদের দেশের অনেক মানুষ বিদেশের চিকিৎসা নিতে বাহিরে চলে যায়। এতে করে অনেক অর্থ খরচ হয়।
তিনি জানান, উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য চিকিৎসা সেবার অন্যতম স্থান টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এখানে স্বল্প খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। যারা রাজধানী মুখী তাদের বিষয়টি ভিন্ন। টিএমএসএস মেডিকেলে ক্যান্সারের চিকিৎসা হচ্ছে, হার্টের অপারেশন করা হচ্ছে। যাতে উত্তরবঙ্গের মানুষকে ঢাকামুখী হতে না হয়। তবে যাদের সক্ষমতা আছে। ল্যাবএইড’র মত পরিবেশে চিকিৎসা নেয়ার। সেখানকার চিকিৎসা ব্যবস্থায় তারা নিতে পারবে। আমাদের অনেকের আর্থিক অসংগতি রয়েছে, তাদের দিকটিও বিবেচনা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ল্যাবএইড হাসপাতাল গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাকিফ শামীমের পক্ষ থেকে হাসপাতালের বর্তমান কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) ফিরোজ হোসাইন খান।
‘ক্যান্সার সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা পরিবর্তন’ বিষয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা সেশন পরিচালনা করেন ডা. আবু হাসান রুবেল হাসান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (বিজনেস ডেভেলপমেন্ট) ফিরোজ হোসাইন খান, অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার ও কো-অর্ডিনেটর (কর্পোরেট) মোঃ আবু নাজিম এবং ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিকস, বগুড়ার সিনিয়র ম্যানেজার (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) প্রবীর কুমার।