তুরাগ নদ পুনরুদ্ধারে ৫৬৭ কোটি টাকার প্রকল্প

তুরাগ নদ দূষণমুক্ত করা, পানির ধারণক্ষমতা বাড়ানো এবং অবৈধ দখল রোধে ৫৬৭ কোটি ৪ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে সরকার। ‘মেট্রো ঢাকা প্রকল্প : গোড়ানচটবাড়ী রিটেনশন পন্ড এবং তুরাগ নদী সুরক্ষা ও সংরক্ষণ প্রকল্প (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারি তহবিল থেকে ১৪২ কোটি ৩১ লাখ টাকা এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে ৪২৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তুরাগ নদের ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার এলাকায় জমে থাকা ২৩ লাখ ৫০ হাজার ঘনমিটার দূষিত পদার্থ অপসারণ ও নিষ্কাশন করা হবে। আজ বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্প প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)। অনুমোদন পেলে চলতি বছর কাজ শুরু হয়ে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় তুরাগ নদে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ গ্র্যাব ড্রেজিং, ৫ হাজার ৩৫ মিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ, ২ কিলোমিটার ইকোসিস্টেম উন্নয়ন এবং স্বয়ংক্রিয় কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য যান্ত্রিক ট্র্যাশ র‌্যাক স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় সহায়ক যন্ত্রপাতি, ৯১টি ফাউন্টেন কাম অ্যারেটর এবং পানির গুণগত মান নিশ্চিত করতে একটি প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি তিনটি পাম্প হাউজ পুনর্বাসন, ২২৬ বর্গমিটারের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা কার্যালয় নির্মাণসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক কাজ করা হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তুরাগ নদ ও গোড়ানচটবাড়ী রিটেনশন পন্ড (জিআরপিএ) এলাকা সংরক্ষণ ও সুরক্ষা, পানির ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অবৈধ দখল রোধ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তুরাগ নদ ও জিআরপিএর পরিধি বরাবর ইকো-বাফার জোন উন্নয়ন করা হবে। এ ছাড়া ঢাকা মহানগরের বৃহত্তর মিরপুর, পল্লবী, রূপনগর, কালশী, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট, মিরপুর ডিওএইচএস, ইস্টার্ন হাউজিং, বৃহত্তর উত্তরা, এয়ারপোর্ট ও বাউনিয়া এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থারও উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বংশী নদী থেকে তুরাগ নদের উৎপত্তি। এরপর ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নে এসে নদটি দুটি শাখায় বিভক্ত হয়েছে। একটি শাখা সাভারের কাউন্দিয়া ইউনিয়নে কর্ণতলী নদে এবং প্রধান শাখাটি আমিনবাজার ইউনিয়নে বুড়িগঙ্গা নদে গিয়ে পড়েছে। নদটির দৈর্ঘ্য ৬৫ কিলোমিটার এবং গড় প্রস্থ ৮৫ মিটার। এটি একটি মাঝারি আকারের বারোমাসি নদী।

এ প্রকল্পটি ছাড়াও একনেক সভায় আজ মোট ১০ হাজার ৪৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকার ১১টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে নতুন সাতটি ও সংশোধিত চারটি প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৮ হাজার ৭৭৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ১ হাজার ৩৬১ কোটি ১০ লাখ টাকা।

এ ছাড়া পরিকল্পনামন্ত্রী ইতিমধ্যে অনুমোদন করেছেন এমন ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত ৯টি প্রকল্পের বিষয়েও সভায় অবহিত করা হবে।