২ বছর পর

আরাকান আর্মির বন্দিদশা থেকে ছাড়া পেলেন ২৪ জেলে

মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির বন্দীদশা থেকে দীর্ঘ দুই বছর পর ছাড়া পেয়েছেন ২০ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চার জেলে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) দীর্ঘস্থায়ী আলোচনা, নিরলস কূটনৈতিক ও মানবিক তৎপরতার ফলশ্রুতিতে এই প্রত্যাবর্তন সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে নাফ নদীর জিরো লাইনে বিজিবির একটি প্রতিনিধি দলের কাছে এই জেলেদের আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে আরাকান আর্মির প্রতিনিধিরা। এরপর তাদের কড়া পাহারায় টেকনাফ জেটিঘাটে নিয়ে আসা হয়।

দীর্ঘদিন ওপারে মানবেতর জীবন কাটানোর পর মুক্ত হওয়ায় জেলেদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসে এমনটাই জানিয়েছেন তারা। 

বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর বিজিবির পক্ষ থেকে তাদের জন্য বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।

এবিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো.হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের আপামর জনসাধারণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিজিবির অন্যতম দায়িত্ব। এই জেলেরা বিভিন্ন সময়ে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে সীমান্ত অতিক্রম করায় আরাকান আর্মির হাতে আটক হয়েছিলেন। আমরা তাদের মানবিক দিকটি বিবেচনা করে আরাকান আর্মির সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদে কার্যকর যোগাযোগ ও পেশাদার আলোচনা বজায় রাখি।

তিনি বলেন, আমাদের আন্তরিক ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই ১৯ আগস্ট বুধবার দুপুরের দিকে ২৪ জন জেলেদের সুস্থ শরীরে দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বিজিবি সবসময় দেশের মানুষের পাশে রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় তাদের পরিচয় নিশ্চিত করে দ্রুত স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বিগত ২০২৪ ও ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় অসাবধানতাবশত জলসীমা অতিক্রম করলে তাদের ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। এরপর মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ক্যাম্পে বন্দি করে রাখে হয়।