বাংলাদেশের কাছে হার দেখে অস্ট্রেলিয়াকে লারার পরামর্শ

ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়তে দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড এবং নাথান লায়নের মতো বিশ্বসেরা পেস ও স্পিন আক্রমণের সমন্বয়ে গঠিত শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া দলকে এভাবে বিধ্বস্ত হতে দেখে ক্যাঙ্গারুদের পাইপলাইন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্ন উঠে গেছে।

এই ঐতিহাসিক হারের পর অস্ট্রেলিয়া দলকে এক গুরুতর সতর্কবার্তা দিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্যাটার ব্রায়ান লারা। অস্ট্রেলীয় দলের এই প্রবীণ তারকাদের একসাথে অবসরে যাওয়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি ১৯৯২ সালের দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের পতনের উদাহরণ টেনেছেন।

কোড স্পোর্টস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রায়ান লারা স্পষ্ট করেন যে, মূল বিপদ খেলোয়াড়দের অবসরে নয়, বরং একসাথে একাধিক তারকার চলে যাওয়ায়, 'অবসর নেওয়ার ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে এগোনোর পথটি অনেক বেশি কার্যকর। আমি যখন অস্ট্রেলিয়ার রিজার্ভ বেঞ্চের দিকে তাকাই, তখন অনেক ব্যাটারকে দেখি যাদের গড় ৩০-এর ঘরে। এমন অবস্থায় যদি দলের ৪-৫ জন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় একসাথে দল ছাড়েন, তবে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো খুবই কঠিন হবে।'

অনেককে এক সাথে অবসর না নেয়ার পরামর্শ ব্রায়ান লারার

নিজের ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা টেনে ক্যারিবীয় কিংবদন্তি বলেন, '১৯৯২ সালের দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্ষেত্রে ঠিক এই ঘটনাটিই ঘটেছিল। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে গর্ডন গ্রিনিজ, ভিভ রিচার্ডস, ম্যালকম মার্শাল এবং জেফ ডুজনের মতো খেলোয়াড়রা দল ছেড়েছিলেন।' ১৯৯১ সালে ইংল্যান্ড সফরের পর ক্যারিবীয় ক্রিকেটের একঝাঁক কিংবদন্তি একসাথে ক্রিকেটকে বিদায় জানান। মাত্র ২২ বছর বয়সে লারাকে সেই ভঙ্গুর ব্যাটিং লাইনের মূল স্তম্ভ হতে হয়েছিল। এর পর থেকে আর কখনো সেই আশির দশকের স্বর্ণযুগ ফিরে পায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামো ও আর্থিক সামর্থ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে শক্তিশালী হলেও লারার মূল বার্তাটি উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। উসমান খাঁজা ইতিমধ্যেই অবসর নিয়েছেন। এরপর যদি প্যাট কামিন্স, স্টিভ স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড কিংবা নাথান লায়ন সংক্ষিপ্ত সময়ের ব্যবধানে একসাথে বিদায় নেন, তবে গড়পড়তা রিজার্ভ বেঞ্চ নিয়ে সেই শূন্যতা পূরণ করা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার জন্যও অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।