পিরামিড তৈরির রহস্য উন্মোচন

‘কমিউনিকেশন আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ জার্নালে বলা হয়েছে, বিজ্ঞানী ও গবেষকরা মিসরের মরুভূমির বালির নিচে নীল নদের ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ শাখা আবিষ্কার করেছেন। নাম দেওয়া হয়েছে, ‘আহরামাত’। প্রাচীন নদটি গিজার পিরামিডসহ ৩১টি পিরামিডের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হতো। বিশাল পাথরের ব্লকগুলো, জলপথে বহন করে পিরামিড তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সেই নদ মরুপ্রান্তরের নিচে চাপা পড়ে গেছে। নর্থ ক্যারোলিনা বিশ^বিদ্যালয়ের স্পেস অ্যান্ড ড্রোন রিমোট সেন্সিং ল্যাবের অধ্যাপক এবং সমীক্ষার গবেষক এমান গোনেইম, সংবাদ সংস্থা সিএনএনকে বলেছেন- ‘নীলনদের আগের শাখাগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা আগেও হয়েছে। মূলত সেটি ছোটখাটো প্রতœক্ষেত্র থেকে মাটি বা শিলার অবশেষ পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে বিচ্ছিন্ন কিছু অংশকে চিহ্নিত করা গেছে। কিন্তু এবারের সমীক্ষা নীলনদের হারিয়ে যাওয়া খাতকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে।’ ‘আহরামাৎ’-এর আরবি অর্থ, ‘পিরামিড’। রাডার তথ্য এবং তড়িৎচুম্বকীয় টোমোগ্রাফিক সমীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে, মাটির তলায় রয়েছে শুকিয়ে যাওয়া প্রাচীন নদখাত। বিজ্ঞানীরা আরও বলেছেন, সম্ভবত নীল নদ অববাহিকায় আহমারাতের দুই পাশে মাটির নিচে অসংখ্য মিসরীয় মন্দির চাপা পড়ে আছে। ঠিক কী কারণে নদটি শুকিয়ে  গেল, তা জানেন না তারা। প্যারিসের ফ্রেঞ্চ ন্যাশনাল  সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চের বিজ্ঞানী নিক মেরিনার বলেছেন, পিরামিড যুগে মিসরের মানচিত্র আলাদা ছিল। পুরোপুরি নির্ভুল তথ্য অচিরেই, বিশ^বাসীর কাছে উন্মোচিত হবে বলে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন।