কারামুক্ত হলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

হত্যা, হত্যাচেষ্টা, রায় জালিয়াতিসহ ৯ মামলায় জামিন পাওয়ার পর কারামুক্ত হয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। গতকাল বুধবার বিকেলে তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হন। বিষয়টি নিশ্চিত করে তার আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু দেশ রূপান্তরকে বলেন, জামিন সংক্রান্ত সব আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে খায়রুল হককে মুক্তি দেওয়া হয়। একটি হত্যা চেষ্টার মামলায় খায়রুল হককে গত ১০ আগস্ট হাইকোর্টের দেওয়া জামিন গত সোমবার বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে কারাগারে যাওয়ার এক বছরের বেশি সময় পর তার মুক্তির পথ খোলে। এটি ছিল খায়রুল হকের বিরুদ্ধে নবম মামলা।

চলতি বছরের ১৭ মে খায়রুল হককে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। এ আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলে গত ৯ আগস্ট প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশটি বহাল রাখে।

২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান খায়রুল হক। ২০১১ সালের ১০ মে তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেয়। ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরে যান। ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই তাকে তিন বছরের জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই মেয়াদ শেষে কয়েক দফা ওই পদে পুনর্নিয়োগ পান খায়রুল হক। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কয়েক দিন পর ১৩ আগস্ট তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ ত্যাগ করেন তিনি। ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।

কাঁদলেন, কাঁদালেন মির্জা ফখরুল : বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে বারবার কাঁদলেন দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নেতা-কর্মীদের কাছে দোয়া চেয়ে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। সভায় বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দলীয় সংসদ সদস্যদের মির্জা ফখরুলের পক্ষে ভোট দিতে বলেন।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে দুপুর ২টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা চলে এ বৈঠক।

সভায় উপস্থিত নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানান, চিফ হুইপের পর বক্তব্য দিতে দাঁড়ান বিএনপির সদ্য বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্যের শুরুতেই আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। কৃতজ্ঞতা জানান, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও।

বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তার কোনো ভুল-ভ্রান্তি হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। তিনি বলেন, দল তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, জীবন দিয়ে হলেও তিনি সেই সম্মান রক্ষা করবেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না।

বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সহকর্মীদের মিস করবেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল সবার কাছে দোয়া চান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় কয়েক মিনিটের বক্তব্যে অন্তত চার-পাঁচবার কেঁদেছিলেন মির্জা ফখরুল। এতে সভায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রীও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

আজ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে মির্জা ফখরুল ইসলামকে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় আর দেখা যাবে না। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি শেষ বক্তব্য দিলেন।

সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল থাকতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে সাংগঠনিক ঐক্য ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এর আগে চিফ হুইপ বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্যদের দলের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করেন।