ট্রাম্পের নতুন হুমকি

ইরানের সাথে ব্যবসা করলেই দিতে হবে চরম মাশুল

আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে এ যাবৎকালের ‘সবচেয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণকারী অর্থনৈতিক অভিযান’ চালানোর কথা জানিয়েছেন। দুই দেশের মধ্যকার ৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ থামানোর আলোচনা থমকে যাওয়ার পর তিনি এই বার্তা দিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইরান চুক্তি করার সুযোগ হাতছাড়া করেছে। তাই এখন নজিরবিহীন অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও অবরোধের মুখোমুখি হতে হবে দেশটিকে।

ইরানের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য বজায় রাখা যেকোনো দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকিও দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প লেখেন, ‘যেকোনো দেশ যদি তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থাকে ইরানের জন্য কোনো ধরনের সহায়তার হাত বাড়াতে দেয়, তবে সেই দেশকেও চরম অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হবে। তেলের চোরাচালান, অর্থ স্থানান্তর, মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, জাহাজের নিবন্ধন এবং বেনামী কোম্পানি—এসব এখনই বন্ধ করতে হবে। এটা হবে একটি অর্থনৈতিক ‘‘ডি-ডে’’। আমেরিকানদের সাথে মিত্রদেরও ইরানের এই হুমকি মোকাবিলায় একযোগে এগিয়ে আসতে হবে।’

তবে ট্রাম্পের এই হুমকি এবারই প্রথম নয়। এপ্রিল মাস থেকে তার প্রশাসন ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’ নামে একটি চাপ সৃষ্টি করার অভিযান চালিয়ে আসছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো তেহরানকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করা এবং তাদের আয়ের পথ বন্ধ করে দেওয়া। এরই মধ্যে আমেরিকার পক্ষ থেকে ইরানের তেল, নৌপরিবহন ও আর্থিক খাতের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা বসানো হয়েছে। সেই সাথে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ তৈরি করা হয়েছে, যাতে তারা বিদেশে তেল বিক্রি করতে না পারে।

আমেরিকান প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, সামরিক অভিযানে ব্যর্থ হয়ে এখন এই পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। আর দেশটির তাসনিম বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, আমেরিকার এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা নতুন কিছু নয়। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই এই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার কৌশল আয়ত্ত করে নিয়েছে। অন্যদিকে ফার্স বার্তা সংস্থা ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘কাল্পনিক’ বলে মন্তব্য করেছে।

আমেরিকান রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি থেকে প্রচারিত আল জাজিরার প্রতিবেদক মাইক হানা জানান, চলমান সংঘাতের সমাধান না হওয়ায় ট্রাম্পের মনে যে হতাশা তৈরি হয়েছে, এই পদক্ষেপ তারই প্রকাশ। তবে নতুন কী ধরনের চাপ দেওয়া হতে পারে, তা ট্রাম্প স্পষ্ট করেননি।

এদিকে ইরানের বড় বাণিজ্যিক অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্প্রতি দেশটির সাথে সব ধরনের আর্থিক সম্পর্ক স্থগিত করেছে। তাদের দাবি, ইরানের পক্ষ থেকে আরব আমিরাতের জলসীমার দিকে দুটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। যদিও ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা এবার চীন, ইরাক ও তুরস্ককে দ্বিতীয় ধাপের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনতে পারে। ব্র্যান্ডেইস বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য অর্থনীতিবিষয়ক অধ্যাপক নাদের হাবিবী জানান, চীন এখনো ইরানের তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ করেনি। তাই ট্রাম্প চাইলে চীনের সেসব ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেন। তবে চীনে আমেরিকার এই পদক্ষেপ কার্যকর করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সব মিলিয়ে, ইরানের ওপর এই চরম অর্থনৈতিক চাপ কতটা কার্যকর হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতির জল কতদূর গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর পুরো বিশ্বের।

সূত্র: আলজাজিরা