ইন্দোনেশিয়ায় ফের ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চলে প্রকৃতি যেন এক ভয়াবহ তাণ্ডব চালাচ্ছে। শনিবারের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ কাটতে না কাটতেই এবার একই সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো আঘাত হেনেছে ৫.৯ মাত্রার আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প।

বৃহস্পতিবারের (২০ আগস্টের) এই কম্পনে পুরো এলাকা জুড়ে নতুন করে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে।

এর আগে, গত সোমবারও একই এলাকায় সমপরিমাণ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। শনিবার আঘাত হানা ৭.৭ মাত্রার মূল ভূমিকম্পের পর থেকেই একের পর এক পরাঘাত বা আফটারশকে কেঁপে উঠছে গোটা অঞ্চল। সাম্প্রতিক এই দুর্যোগে ফ্লোরেসে ইতিমধ্যেই অন্তত ৫৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১৩৫ জনেরও বেশি মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দারা যখন ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে প্রিয়জনদের খোঁজে ব্যস্ত, ঠিক তখনই বারবার ভূমিকম্পের ঘটনায় উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

পরপর কয়েকটি ভূমিকম্পের প্রভাবে পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের অবকাঠামো ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এখন পর্যন্ত ৯০০টিরও বেশি ঘরবাড়ি পুরোপুরি ধসে পড়েছে এবং প্রায় ৪৫০টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধুমাত্র ফ্লোরেস এলাকাতেই দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। হঠাৎ ঘরবাড়ি হারিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ এখন গৃহহীন অবস্থায় চরম মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা হওয়ায় কম্পনের পরপরই সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, যার ফলে আতঙ্কে বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। যদিও পরবর্তীতে সেই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।

বর্তমানে গৃহহীন ও বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি ত্রাণ দলের সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রয়োজনীয় চাল, প্রস্তুত করা খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, কম্বল ও জরুরি ওষুধপত্র বিতরণ করছেন। তবে বারবার ভূমিকম্পের কারণে পুরো অঞ্চল জুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।