কলকাতার নিউ মার্কেটের প্রাণকেন্দ্রে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের জের ধরে চরম ক্ষোভ ও প্রশাসনিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত নয়জন নিরপরাধ মানুষ, যাদের মধ্যে পাঁচজনই বাংলাদেশি নাগরিক বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
দুর্ঘটনার পর পরই নড়েচড়ে বসেছে কলকাতা পুলিশের লালবাজার গোয়েন্দা বিভাগ। ঘটনার পেছনে থাকা অনিয়ম ও অবহেলার অভিযোগে গঠন করা হয়েছে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট। পুলিশি অভিযানের শুরুতেই এন্টালি মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুর্ঘটনাগ্রস্ত হোটেল ‘শিখা ইন’-এর লিজ় হোল্ডার বা ইজারা গ্রহীতা আবু জাফরকে। এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার সন্দেহে আরও দু’জনকে আটক করে তীব্র জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে গোয়েন্দা পুলিশ।
তদন্তে জানা গেছে, মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি পাঁচতলা ভবনের মাত্র ১১০০ বর্গফুটের সংকীর্ণ জায়গায় বেআইনিভাবে গড়ে তোলা হয়েছিল ‘শিখা ইন’ হোটেলটি। একটি দুটি কামরার ফ্ল্যাটের সমান জায়গায় কাঠের বেড়া দিয়ে খুপরি খুপরি পাঁচটি ঘর তৈরি করে সেখানে অবস্থান করতেন অতিথিরা। ভবনটিতে ফায়ার সেফটি বা অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থার কোনো সঠিক বাস্তবায়ন ছিল না। আবাসিক ভবনকে সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে বাণিজ্যিক ভবনে রূপান্তর করে অতিথি নিবাস চালানো হচ্ছিল বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং দমকল বিভাগের একদম নাকের ডগায় এমন বেআইনি কার্যকলাপ এতদিন ধরে কীভাবে চলছিল, তা নিয়ে এখন জোর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল মালিক বীরেশ্বর মিত্রের সন্ধান পেতে বর্তমানে একাধিক টিম কাজ করছে। আটক অন্য দুজন ব্যক্তির মধ্যে নিকটবর্তী অন্য একটি হোটেলের কর্মচারীও রয়েছেন, যা ঘটনার সাথে প্রাতিষ্ঠানিক যোগসাজশের বড় ইঙ্গিত দেয়। সার্বিক নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে কীভাবে এই ধরণের মৃত্যুফাঁদ দীর্ঘদিন ধরে সচল ছিল, তা খতিয়ে দেখে দায়ীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে গোয়েন্দা বিভাগ।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা