রেফারিংয়ের ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ হারাচ্ছে বালোগুনের লাল কার্ড বিতর্ক

ঘটনাটির প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও থামছে না সবশেষ বিশ্বকাপে ফোলারিন বালোগুনের সেই লাল কার্ড বিতর্ক। এ নিয়ে জলঘোলা-সমালোচনা হয়েছেও বেশ। তবে সময়টা যখন ক্লাব ফুটবলের নতুন মৌসুম শুরুর তখন ফের আলোচনায় সেই লাল কার্ড বাতিলের ইস্যু। 

বিশ্বকাপের লাল কার্ডের খড়্গ থেকে বালোগুনের মুক্তি পাওয়া নিয়ে ফিফার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক ও শৃঙ্খলা প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। প্রিমিয়ার লিগের রেফারিং প্রধান হাওয়ার্ড ওয়েভ এবং প্রধান নির্বাহী রিচার্ড মাস্টার্স এমন কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, এই ঘটনা ফুটবলের ভেতরে এবং মাঠের বাইরের পরিমণ্ডলে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক ও সন্দেহের বীজ বুনে দিয়েছে, যা আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ঘরোয়া মৌসুমের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। 

যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পেছনে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্যে হস্তক্ষেপের বিষয়টি বেশ সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। এই প্রসঙ্গ টেনে লন্ডনে প্রিমিয়ার লিগের কার্যালয়ে এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রিমিয়ার লিগের চিফ এক্সিকিউটিভ রিচার্ড মাস্টার্স তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের মূল আলোচনা হওয়া উচিত ছিল জাদুকরী সব ফুটবল ম্যাচ এবং স্পেন যে অন্যতম সেরা দল তা নিয়ে, কিংবা সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের চরম আক্ষেপ নিয়ে। কিন্তু আমরা সেসবে নেই, আমরা অন্য সব ইস্যু নিয়ে কথা বলছি। এটি সত্যিই ভীষণ লজ্জার।’

মাস্টার্স আরও যোগ করেন যে, এই ঘটনা ফিফার শৃঙ্খলা সংক্রান্ত নিয়মের অন্তর্নিহিত দুর্বলতাকেই ফুটিয়ে তুলেছে, যেখানে অনেক ঘরোয়া প্রতিযোগিতার মতো লাল কার্ড পুনর্বিবেচনা বা প্রত্যাহারের কোনো স্বচ্ছ বিধান নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বালোগুনের বিষয়টি একটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ঘটনা, যা কোনোভাবেই সহজে বোধগম্য নয়। এখানে কার্ড প্রত্যাহারের কোনো বিকল্প নেই। আমার মতে, এটি অকারণে চরম বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।’

প্রিমিয়ার লিগের রেফারিদের প্রধান এবং ২০১০ বিশ্বকাপ ফাইনাল পরিচালনা করা হাওয়ার্ড ওয়েবও এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবলের সিদ্ধান্তগুলোকে কোনো ধরনের তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই দুর্নীতির সঙ্গে মেলানোর প্রবণতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে ভীষণভাবে কষ্ট দিয়েছে। আমরা জানি যে ফিফার ওপর এক রাজনীতিকের পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, কারণ তা খোদ স্বীকারও করা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে, তা টুর্নামেন্ট শুরুর আগে দৃশ্যমান ছিল না।’  

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপপ্রচার ও দুর্নীতির ভিত্তিহীন অভিযোগ নিয়ে ওয়েভ আরও বলেন, ‘বর্তমানে অতিরিক্ত মাত্রায় মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় টাইপ করে যেকোনো সিদ্ধান্তকে দুর্নীতি বলে রায় দিয়ে দেয়। কোনো সত্য বা তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তারা নিজেদের পছন্দমতো মোটিভ দাঁড় করাতে চায়। এটি সাধারণ মানুষের মনে এমন এক ধারণার জন্ম দেয় যে পর্দার আড়ালে সব সময় এমন কারসাজি চলছে, যা আমার পেশাগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে মোটেও মেলে না।’

আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমেও এই বিতর্কের কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়েভ বলেন, ‘এটি কোনোভাবেই সহায়ক নয়, তাই না? এটিই আমাকে সবচেয়ে বেশি ভাবায় যে বাইরে থেকে এ ধরনের প্রভাব বিস্তার করা সম্ভব, যা আমি যে ফুটবলকে চিনি তার সঙ্গে একেবারেই সংগতিপূর্ণ নয়।’

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল ও কভেন্ট্রির মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে প্রিমিয়ার লিগের এবারের মৌসুম। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১টায়।