সিরিয়া নিয়ে ইসরায়েল-তুরস্কের পাল্টাপাল্টি সতর্কবার্তা

সিরিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলি হামলার দুই দিন পর দেশটি তুরস্ককে সিরিয়ায় ‘বিপজ্জনক তৎপরতা’ চালানোর অভিযোগ করেছে। অন্যদিকে তুরস্ক ইসরায়েলকে ‘বেপরোয়া’ হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুই দেশের পক্ষ থেকে এমন পাল্টাপাল্টি সতর্কবার্তা আসে। খবর রয়টার্সের। 

ইসরায়েল-তুরস্কের এই উত্তেজনায় সিরিয়াকে ঘিরে আঞ্চলিক দুই শক্তির বিরোধ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আরব দেশ সিরিয়া দুই দেশেরই সীমান্তবর্তী। ২০২৪ সালে বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার মিত্র হিসেবে তুরস্কের প্রভাব বাড়তে থাকায় ইসরায়েলের উদ্বেগও বেড়েছে।

ইসরায়েলের দাবি, দামেস্ক আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে তুর্কি সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ ধরনের মোতায়েন ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে—এমন সতর্কবার্তা ইসরায়েল আগেই সিরিয়াকে দিয়েছিল। তবে তুরস্ক এই দাবি অস্বীকার করেছে।

সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি বুধবার অ্যাক্সিওসকে বলেন, আবু আল-দুহুরে তুরস্কের কোনো সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা নেই—এ কথা তিনি ইসরায়েলকে স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন।

তিনি জানান, হামলার কয়েক দিন আগে উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার ওই বিমানঘাঁটি তুরস্কের কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা পরিদর্শন করেছিলেন। তবে এটি ছিল ‘প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে চলমান সামরিক সহযোগিতার’ অংশ।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, হামলার আগে বা হামলার সময় ওই ঘাঁটিতে কোনো তুর্কি সামরিক প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল না। সিরিয়ার নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা ও অবকাঠামো উন্নয়নে দেশটির প্রচেষ্টা অব্যাহতভাবে সমর্থন করবে আঙ্কারা।

এক বিবৃতিতে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘সিরিয়া ও পুরো অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে ইসরায়েলের এমন বেপরোয়া হামলা বন্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে চলা জরুরি।’

এদিকে রয়টার্সকে সূত্র জানিয়েছে, সিরিয়ায় তুরস্কের সম্ভাব্য সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নিয়ে গত ১৪ আগস্ট সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাইবানি ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান রোমান গফম্যানের মধ্যে বিরল এক ফোনালাপেও আলোচনা হয়েছিল। বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলি হামলার কয়েক দিন আগেই ওই ফোনালাপ হয়।