চলতি বছরের তীব্র এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট খরা মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কার সাত জেলার প্রায় ৭২ হাজার মানুষের কাছে পানি পৌঁছে দিচ্ছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর রয়টার্সের।
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াজনিত ঘটনা, যার প্রভাব অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়। এর ফলে কোথাও খরা, আবার কোথাও বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবও এটি আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
শ্রীলঙ্কা সরকার বলছে, চলতি বছরের এল নিনোর প্রভাব কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হতে পারে। দেশটির শত শত ছোট জলাধারে পানির স্তর নেমে এসেছে মাত্র ১০ শতাংশে। এতে শুধু খাবার পানির সংকটই তৈরি হয়নি, নারিকেল ও বিভিন্ন সবজিসহ কৃষিপণ্যও পানির অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পানি সরবরাহের জন্য সরকার বাজেট থেকে ৪৮০ কোটি শ্রীলঙ্কান রুপি (প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার) বরাদ্দ করেছে।
পরিবেশমন্ত্রী দাম্মিকা পাতাবেন্দি সাংবাদিকদের বলেন, সরকার আগে ধারণা করেছিল নভেম্বরে এল নিনোর প্রভাব সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। তবে এখন মনে করা হচ্ছে, এর প্রভাব তার আগেই চূড়ায় উঠতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা এসব কার্যক্রম পুনর্বিবেচনা করে আরও বাড়াব।’
মন্ত্রী জানান, সেপ্টেম্বরের পর বছরের শেষ দিকে মৌসুমি বৃষ্টিতে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে আগামী বছরের শুরুতে আবারও খরা ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় সর্বশেষ ২০১৫-১৬ সালে এল নিনোর প্রভাব দেখা গিয়েছিল।
মন্ত্রী বলেন, খরায় আক্রান্ত নয়—দেশের এমন বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাকে করে পানি এনে দুর্গত অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিটি পরিবারকে পানীয় ও স্যানিটেশনের প্রয়োজন মেটাতে দুই থেকে তিন দিন পরপর প্রায় ৭৫ লিটার পানি দেওয়া হচ্ছে।
খরার প্রভাব পড়েছে বন্যপ্রাণীদের ওপরও। বিশেষ করে ইয়ালা ন্যাশনাল পার্কে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। শ্রীলঙ্কার স্থানীয় একটি উপপ্রজাতির চিতাবাঘের সবচেয়ে বড় আবাসস্থল এই জাতীয় উদ্যান।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের মহাপরিচালক এল. মারাসিংহে জানান, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে পাম্পের মাধ্যমে জাতীয় উদ্যানে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।