শেকৃবি ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

জীববৈচিত্র‍্য সংরক্ষণ, কৃষি-বাস্তুবিদ্যা, টেকসই কৃষি শিক্ষা ও গবেষণা এবং কৃষি উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ মো. নজরুল ইসলাম এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশনের পক্ষে নির্বাহী পরিচালক মো. মহসিন আলী সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ। বিশেষ ছিলেন উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন ও ট্রেজারার প্রফেসর আবুল বাশার।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফে (ডঐঐ)-এর ফুড সিস্টেমস প্রকল্পের প্রধান ফয়সাল আহমেদ, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের গ্রিন ইভোলিউশন প্রকল্পের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মো. আনিসুর রহমান, সহকারী পরিচালক নির্মল দাসসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় ওয়েভ ফাউন্ডেশনের গ্রিন ইভোলিউশন প্রকল্পের অধীনে অ্যাগ্রোইকোলজি বিষয়ে কর্মমুখী কারিকুলাম প্রণয়ন, শিক্ষা কার্যক্রমের উন্নয়ন, গবেষণা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি চর্চা সম্প্রসারণে যৌথভাবে কাজ করবে দুই প্রতিষ্ঠান। এর ফলে শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাশার ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের প্রথম ফিজিওলজি ল্যাব স্থাপনের জন্য প্রতিষ্ঠানটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ অংশীদারিত্ব কৃষি খাতে উদ্ভাবন, জ্ঞান বিনিময় ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন বলেন, পৃথিবীতে যত আবিষ্কার হয়েছে, প্রায় প্রতিটির সঙ্গে কোনো না কোনো গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পৃক্ততা রয়েছে। বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো উন্নয়ন সংস্থা শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এ ধরনের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে উল্লেখ করে তিনি ওয়েভ ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অ্যাগ্রোইকোলজি শিক্ষা ও গবেষণার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।

উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ বলেন, আমরা পৃথিবীতে এসে যে পরিবেশ পেয়েছি, তার চেয়ে ভালো অবস্থায় পরিবেশটিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে হবে। তবেই একদিন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, ওয়েভ ফাউন্ডন পরিচালিত গ্রিন ইভোলিউশন প্রকল্পটি জার্মান সরকারের সহযোগিতা এবং ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফে-এর সমর্থনে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে টেকসই কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর অবদান রাখার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।