ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ সাত বাংলাদেশির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তাদের ময়নাতদন্ত করা হয়। দুই দেশের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হলে আগামী শনিবার মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন নিহত সাংবাদিক দেবাশীষের আত্মীয় ও ভারতের মালদহের বাসিন্দা কৃষ্ণ নন্দী।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ভারতের মালদহের বাসিন্দা কৃষ্ণ নন্দী জানান, দেবাশীষ দত্তসহ পরিবারের চারজনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তারা কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশনে গেছেন। এর আগে সকালে কলকাতার নিউমার্কেট থানা থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেছেন।
কৃষ্ণ নন্দী বলেন, দুই দেশের আইনি প্রক্রিয়া যত দ্রুত শেষ হবে, তত দ্রুত মরদেহ বাংলাদেশে আনা সম্ভব হবে। তবে শনিবার মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি ধারণা করছেন।
কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার ভাড়া বাসায় থাকতেন দেবাশীষ দত্ত ও তার পরিবার।
দেবাশীষের বাবা দিলীপ দত্ত বলেন, ‘ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতির মরদেহের অপেক্ষায় দিন কাটছে। পরিবারের পুরুষ সদস্য বলতে এখন আমিই একা। বুকের ভেতর তীব্র কষ্ট থাকলেও তা প্রকাশ করতে পারছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার সংসারে দেবাশীষই ছিল মূলধন। আমরা দুজনই হৃদরোগে ভুগছি। যে বাসায় থাকি, সেখানে মাসে সাত হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়। এখন দেবাশীষের মেয়েকে কীভাবে দেখব? তাকে দেখাশোনা করাও আমার জন্য কষ্টকর। এখন আমরা কোথায় যাব, কী করব—কিছুই জানি না। খেয়ে থাকব, নাকি না খেয়ে থাকব, সেটাও জানি না।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার মাথা গোঁজার মতো ঠাঁই নেই। এই সংসার কীভাবে চলবে, তা দেখার মতো কেউ নেই। সরকারের কাছে আবেদন, শিশুটিকে নিয়ে যেন আমরা বেঁচে থাকতে পারি, সেই সহযোগিতা করুন।’
দেবাশীষ দত্ত আজকের পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইন-এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি আজকের আলো নামের একটি স্থানীয় পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। তার মৃত্যুতে শোকাহত সহকর্মী, স্বজন ও কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সমাজ। পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা কিছুতেই এ মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না।
দেবাশীষ দত্তের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ও স্টার নিউজের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম জানান, ‘সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের কোনো বাড়ি নেই। একদম বাস্তহারার মতো। তার উপার্জনের মাধ্যমেই চলত। তার মৃত্যুতে এই পরিবারটি একদম অতলে পড়ে গেল। সরকার, সাংবাদিক নেতা ও সাংবাদিক সংগঠনের কাছে আমার দাবি, এই বাচ্চাটা যাতে লেখাপড়া করতে পারে এবং পরিবারটি যেন খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে পারে, সেই ব্যবস্থা করা হোক।’
কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু জানান, ‘প্রয়াত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের পাশে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। তাদের একটি ঠিকানা তৈরি করার জন্য আমরা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও প্রশাসনের মাধ্যমে চেষ্টা করছি।’