ফেসবুক পোস্ট ঘিরে ফের আলোচনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান

একটি ফেসবুক পোস্ট নিয়ে ফের আলোচনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান। গত মঙ্গলবার দেওয়া পোস্টে পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেড এ সন্ত্রাসীর দাবি, একের পর এক তার লোকজন কারাবন্দী হলেও তিনি একা হয়ে যাননি। ডেভিড ইমন কিংবা তার (রায়হান) মতো অনেক লোকজন বিদেশে পলাতক তার 'গুরু' বড় সাজ্জাদের ভান্ডারে আছে। 

পোস্টে রায়হান লিখেছেন, "আমার খেলা শেষ আহারে বেকুবের দল’। সাজ্জাদের 'সব অটো মাল' একবার সামনে এলে তারা আগের লোকজনের চেয়েও ভয়ংকর হয়ে উঠবে। শত শত রায়হান আছে সাজ্জাদ ভাইয়ের স্টোরে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যে এর ‘আপডেট’ পাওয়া যাবে। সংখ্যায় লোক বাড়ানো পাবলিক আমি না, কাজে পরিচয় দেব।"

রায়হানের ফেসবুক পোস্ট সম্পর্কে জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, "ডেভিড ইমন, ধামা ইলিয়াসের মতো বাঘা সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। রায়হানকেও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।"

পুলিশ বলছে, রায়হানের ফেসবুক পোস্ট চট্টগ্রামে শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকার ইংগিত দেয়। সম্প্রতি রাউজানের কদলপুরে প্রতিপক্ষ আরেক সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের দিকে ইংগিত করে রায়হান লিখেছেন, ‘রাউজানের সব ডাকাত বাহিনী এক হয়েছে এক সঙ্গে অ্যাটাক করবে আমাকে। আমি ছোট একটা মানুষের জন্য যদি এত বড় আয়োজন করা লাগে তুরা কিসের গুন্ডা?’ রায়হান দাবি করেন, তার কাছে প্রতিপক্ষের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য রয়েছে। কে কোন জায়গা থেকে আসে যাই সব খবর আমার কাছে আছে।

গত ২৯ জুলাই যশোর থেকে তিন সহযোগীসহ ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অবশ্য একই দিন নোয়াখালীর রংমালা গ্রামে রায়হানকে ধরতে অভিযান চালায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। এসময় ভবন থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান তিনি। গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হওয়ার দুই দিনের মাথায় চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মাসুদ আলমকে উদ্দেশ্য করে একটি ফেসবুক পোস্ট দেন রায়হান। এরপর ১৮ দিনের মাথায় আবারও পুলিশের উদ্দেশ্যে পোস্ট দেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। 

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বড় সাজ্জাদ বাহিনীর  সঙ্গে যুক্তদের গতিবিধির ওপর কড়া নজরদারি রয়েছে। ডেভিড ইমন,  ধামা ইলিয়াসের মতো সহযোগীদের গ্রেপ্তারের পর বড় সাজ্জাদ গ্রুপের নেতৃত্বে কে বা কারা আসার চেষ্টা করছে সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ  সুপার মাসুদ আলম।