সিপিডির গবেষণা প্রতিবেদন

পোশাক কারখানার ছাদে ১৭৬৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব

দেশের তৈরি পোশাক খাতে প্রায় ৯৭ লাখ বর্গমিটার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। এসব ছাদ ব্যবহার করে প্রায় ১ হাজার ৭৬৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ ‘তৈরি পোশাক খাতে শিল্পকারখানায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ : চীনা প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনায় এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের সভাপতিত্বে এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট আবরার আহমেদ ভূঁইয়া ও নূর ইয়ানা জান্নাত। সভায় বিডা পরিচালক শাহ নুসরাত জাহান, বিআরইবির প্রধান প্রকৌশলী (পরিকল্পনা ও পরিচালন) স্বপন বণিক, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জাহিদুল আলম ও বিকেএমইএর পরিচালক মিনহাজুল হক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। সিপিডি জানায়, পোশাক কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। এ জন্য মোট ১৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগই যথেষ্ট হতে পারে। তবে সব কারখানা তাৎক্ষণিকভাবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত নয়। সংস্থাটির তথ্যমতে, দেশের তিন হাজার ৩২০টি পোশাক কারখানার ছাদে প্রায় এক হাজার ৭৬৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫শটি কারখানা ইতিমধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। এর মধ্যে ঢাকায় ১৭৬টি ও গাজীপুরে ১৭৩টি কারখানায় তাৎক্ষণিকভাবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের সুবিধা ও নীতিগত সহায়তা দেওয়া হলে আরও প্রায় ১৩শ কারখানায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, প্রায় ৪৩০ থেকে ৪৪০টি কারখানায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য বড় ধরনের হস্তক্ষেপ ও সহায়তা প্রয়োজন হবে।

সিপিডি বলছে, দেশের চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় পোশাক খাতের কারখানাগুলো ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরকে লক্ষ্য করা যেতে পারে। এসব এলাকায় বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত কারখানার সংখ্যা বেশি এবং বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর প্রধান কারখানাগুলোরও বড় অংশ এসব এলাকায় অবস্থিত।

সভায় বিআরইবির প্রধান প্রকৌশলী স্বপন বণিক বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বলতে শুধু সৌরবিদ্যুৎ নয়, বায়ু ও জলবিদ্যুৎও এর অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশে জলবিদ্যুতের প্রধান উৎস কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। বর্ষা মৌসুমে সেখান থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ২২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও গ্রীষ্মকালে উৎপাদন ৮০ থেকে ১০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে। বায়ুবিদ্যুৎ থেকেও নিয়মিত পর্যাপ্ত উৎপাদন পাওয়া যায় না। ফলে বাংলাদেশের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে হতে পারে সৌরবিদ্যুৎ।

বিকেএমইএর পরিচালক মিনহাজুল হক বলেন, তৈরি পোশাক খাতে চলমান তীব্র গ্যাস ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবশ্যই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের একটি পথ। তবে বর্তমানে শিল্প সচল রাখতে স্বল্পমেয়াদি সমাধানও প্রয়োজন। কারণ নিটিং, ডাইং ও ওয়াশিংসহ পশ্চাৎমুখী সংযোগ শিল্পগুলো সচল না থাকলে তৈরি পোশাক কারখানাগুলোও সচল রাখা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, আরএমজি উদ্যোক্তারা জানতে চেয়েছেন, কারখানায় কাপড় না থাকলে তারা কীভাবে উৎপাদন চালাবেন এবং শ্রমিকদের ছাঁটাই বা কারখানা বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না। এ পরিস্থিতিতে যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান গত ছয় মাস বা এক বছর নিয়মিত ও উচ্চহারে গ্যাস-বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করে আসছে, শুধু সাম্প্রতিক দুই মাসের সংকটের কারণে যেন তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা না হয়, সে বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা প্রয়োজন।

বিডার পরিচালক নুসরাত জাহান বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট কোনো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জায়গা থেকে নানা ধরনের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। বিডা এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্থাকে একই টেবিলে বসিয়ে বিনিয়োগকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় ও যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দেয়। চীনা বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রেও একইভাবে কাজ করা হবে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে বিডা।