হামলার পরও চিকিৎসক আসাদুরকে সন্ত্রাসীদের হুমকি

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা (ইএনটি) বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। চাহিদামতো নির্ধারিত সময়ে চাঁদা না দেওয়ায় গত সোমবার রাতে রাজধানীর শান্তিনগরে তার ওপর হামলা হয়। পুলিশ এই ঘটনায় জীবন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদিকে হামলার পর আরও দুইবার চিকিৎসক আসাদুরকে হুমকি দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।

বর্তমানে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অধ্যাপক আসাদুরের দুই চোখে রক্ত জমাট বেঁধেছে। তার চোখের কর্নিয়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি জানান, ৬ আগস্ট আমার হোয়াটসঅ্যাপে একটি নম্বর থেকে হুমকি বার্তা আসে। তখন বিষয়টিকে গুরুত্ব দেইনি। আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেইনি। তবে হামলার পর বুঝতে পারি, হুমকির সঙ্গে হামলার যোগসূত্র থাকতে পারে। তিনি বলেন, ১৪ আগস্টের মধ্যে চাঁদা দেওয়ার কথা বলা হলেও দেইনি। এরপর ১৭ আগস্ট রাতে শান্তিনগরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে আমার ওপর হামলা হয়।

হামলার প্রায় এক ঘণ্টা পর সন্ত্রাসীরা আবার বার্তা পাঠিয়ে জানতে চায়, এখন কেমন লাগে? পরদিন ১৮ আগস্ট ফের হুমকি দিয়ে বলা হয়, তুমি কি আমাদের সঙ্গে আরও লাগতে আসবা? এসব হুমকি ‘ডেভিড ইমন’ নামে দেওয়া হয়েছে’, বলেন চিকিৎসক আসাদুর। তার ধারণা, এর পেছনে কোনো বড় গ্যাং থাকতে পারে।

পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মী রাশেদুল ইসলাম জানান, শান্তিনগরের পপুলারের তিন নম্বর ভবনে ব্যক্তিগত চেম্বার শেষে অধ্যাপক আসাদুর সিএনজি অটোরিকশায় ওঠেন। এ সময় ৫ ব্যক্তি অটোরিকশাটি থামিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এতে তার মাথা, চোখ ও নাকে আঘাত লাগে।

পুলিশের ধারণা, এরা সন্ত্রাসী কোনো একটি গ্রুপের মাঠকর্মী। তারা সবাই ছদ্মনাম ব্যবহার করেছে। জীবনের এনআইডি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। হামলায় অংশ নেওয়া অপর চারজনের ছদ্মনাম পাওয়া গেলেও তাদের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পল্টন থানার ওসি মোস্তফা কামাল খান জানান, হামলার ঘটনায় অধ্যাপক আসাদুর বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার জীবনকে রিমান্ডে আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ডেভিড ইমনের নামে যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, সেই ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী। সম্প্রতি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, তার নাম ব্যবহার করে হয়তো অন্য কোনো গ্রুপ এই হুমকি দিয়েছে। এদিকে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম অধ্যাপক আসাদুরের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।