সংস্কার নিয়ে এলজিইডি ও পৌরসভার ঠেলাঠেলি

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম

সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন অংশে জমে যায় পানি। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ঢালাই ভেঙে বেরিয়ে গেছে রড। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্বপুর-কর্ণগোপ সড়কের তিন কিলোমিটার সড়কের চিত্র এটি, যা এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। অথচ সড়কের এই অংশ নির্মাণে কয়েক দফায় ব্যয় হয়েছে ২০ কোটি টাকা। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ-ব্যবস্থা ও নির্মাণকাজে অনিয়মের কারণেই কয়েক বছর না যেতেই সড়কটি বেহাল হয়ে পড়েছে। এদিকে ভাঙা অংশ সংস্কার নিয়ে এলজিইডি ও পৌরসভার মধ্যে ঠেলাঠেলি চলছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রূপসী-কাঞ্চন সড়কের গন্ধর্বপুর থেকে কর্ণগোপ হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক শতাধিক মালবাহী যানবাহন চলাচল করে। এর আশপাশে ৫০টির অধিক শিল্পকারখানা রয়েছে। প্রতিদিন এ পথে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক, শিক্ষার্থী, যাত্রীসাধারণ ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি নির্মাণে কয়েক দফা অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরে তারাবো পৌরসভা থেকে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে উপজেলা এলজিইডি থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয় ২ কোটি ৯০ লাখ ৬০ হাজার টাকা। পরবর্তী সময়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে উপজেলা এলজিইডি থেকে আরও প্রায় ৬ কোটি ৯২ হাজার টাকা এবং একই অর্থবছরে তারাবো পৌরসভা থেকে আরও ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চার দফায় প্রায় ২০ কোটি টাকা বরাদ্দের পর উপজেলা এলজিইডি ও তারাবো পৌরসভার উদ্যোগে গন্ধর্বপুর বড়বাড়ি থেকে কর্ণগোপ পর্যন্ত প্রায় ২৪ ফুট প্রশস্ত সিসি ও আরসিসি সড়ক নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের কয়েক বছর না যেতেই সড়কের বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও ঢালাই উঠে গিয়ে রড বেরিয়ে পড়েছে। সড়কের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা কংক্রিটের অংশ। যানবাহনের চাকার চাপে এসব ভাঙা অংশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় সড়কের এই অবস্থা হয়েছে। এ ছাড়া পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ড্রেনেজ-ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষাকালে সড়কের ওপর পানি জমে থাকে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকার কারণে সড়কের নিচের অংশ দুর্বল হয়ে ভাঙন ত্বরান্বিত হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

সড়কটি নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের পাশাপাশি সংস্কারের দায়িত্ব নিয়েও দেখা দিয়েছে এলজিইডি ও তারাবো পৌরসভার মধ্যে মতপার্থক্য। স্থানীয়দের ভাষ্য, এলজিইডির কাছে গেলে তারা বলছে, সড়কের কিছু অংশ পৌরসভা করেছে, তাই ওই অংশের সংস্কারের দায়িত্ব পৌরসভার। অন্যদিকে পৌরসভা থেকে বলা হচ্ছে, মূল সড়কটি এলজিইডির আওতাধীন এবং পৌরসভা পরবর্তী সময়ে সড়কের কিছু অংশ নির্মাণ করেছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ না হওয়ায় জনদুর্ভোগ আরও বাড়ছে।

রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন বলেন, গন্ধর্বপুর থেকে এক কিলোমিটার পর্যন্ত অংশ জি-ডিভি ফোর প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সম্পন্ন করা হয়। সড়কের কিছু অংশ পৌরসভাও করেছে। যেহেতু সড়কের বাকি অংশ পৌর এলাকার মধ্যে পড়েছে, তাই সেটি পৌরসভা থেকে করা হবে। তারাবো পৌরসভার প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, গন্ধর্বপুর বড়বাড়ি থেকে কর্ণগোপ সড়কটি বর্তমানে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। এটি তারাবো পৌরসভার ভেতরে পড়লেও সড়কটি সংস্কারের জন্য বর্তমানে পৌরসভার পর্যাপ্ত অর্থ নেই। তাই এলজিইডির কাছে লিখিতভাবে অনুরোধ করা হবে, যাতে তারা দ্রুত সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত