সাতজনের মৃত্যুদন্ড ৭ জনের যাবজ্জীবন

জামালপুরে আলোচিত চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় সাতজনকে মৃত্যুদন্ড ও সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ  প্রথম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন এই রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দিদারুল ইসলাম দিদার বলেন, ২০১৬ সালে মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আলতাফুর রহমান আতা ও বিদ্রোহী প্রার্থী ইছাহাকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় করা মামলায় ইছাহাকের সমর্থক ও আদারভিটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করতে ১০ এপ্রিল গজারিয়া গ্রামে গিয়ে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে।

এদিকে মোস্তফার বাড়ি চিনতে না পেরে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিবেশী মহর আলী ও তার ভাতিজা স্বপন মিয়ার কাছে বাড়িটির অবস্থান জানতে চায় পুলিশ। পরে তাদের দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করে। এদিকে জেলখানা থেকে জামিনে মুক্ত পেয়ে বাড়িতে এসে প্রতিশোধ নিতে মহর ও স্বপনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মোস্তফা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে গান-বাজনার কথা বলে মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান মোস্তফার সমর্থক সাখাওয়াত ও সোহেল। পরে সাদ্দামের কথিত প্রেমিকাকে তুলে আনার কথা বলে তাদের জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার ভানু ফকিরের পাটক্ষেতে নেওয়া হয়। সেখানে মোস্তফার লোকজন মহর আলী ও তার ভাজিতা স্বপন মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে। ঘটনার তিন দিন পর পাটক্ষেতে দুজনের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

মহর আলী মাদারগঞ্জ উপজেলার গজারিয়া এলাকার আব্দুস সালাম দফাদারের ছেলে। তিনি মির্জা আজম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে ভাতিজা স্বপন মিয়া।  সে সানাইবান্দা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সম্পর্কে তারা আপন চাচা-ভাতিজা।

এ ঘটনায় স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ২২ জনকে আসামি করে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় ১৮ সাক্ষীর সাক্ষরের ভিত্তিতে আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাত আসামিকে মৃত্যুদন্ড ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড প্রদান করা হয়।

দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন সাখাওয়াত, সোহেল, আল আমিন, সাদ্দাম, উজ্জল, অন্তর ও ফয়জুর। এ ছাড়া একই মামলার যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও প্রত্যেক দন্ডপ্রাপ্তদের ২০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। দন্ডপ্রাপ্ত  হলেন চাঁন মিয়া, মো. জিয়ার, শাহ আলম, কাওসার, রিফাত, সুমন ও মোস্তফা। এই রায়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, এই ধরনের রায়ের মাধ্যমে অপরাধীরা সমাজে যেকোনো অপরাধ করতে সাহস পাবে না। এটি অপরাধীদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক রায় বলে তিনি মনে করেন।